ঢাকা | অক্টোবর ১২, ২০২৬ - ৮:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারাদেশ

হালুয়াঘাটে বিজিবির ওপর হামলা: গুলিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী নিহত, সড়ক অবরোধ, এলাকায় চরম উত্তেজনা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির আত্মরক্ষামূলক গুলিতে নোমান আলী (৩৫) (স্থানীয়ভাবে রোমান নামে পরিচিত) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বিজিবির দাবি, নিহত ব্যক্তি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি দলের সদস্য। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, নোমান আলী বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ প্রধান সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন জলজলিয়া (ঝলঝলিয়া) সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান উপজেলার ১ নম্বর ভুবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ি গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলিখালী বিওপির একটি টহলদল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে অবৈধ পণ্য (৪টি গরু) আটক করে। আটক করা পণ্য নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

বিজিবির দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে হামলাকারীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চোরাকারবারিরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে বিজিবির নায়েক রফিক (৪০) গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে নিজেদের জীবন ও সরকারি মালামাল রক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এতে নোমান আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহতের ছোট ভাই আবু রাইহানের অভিযোগ, রাতে এলাকায় গরু খোঁজার নামে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে নোমান আলী ঝলঝলিয়া গ্রামে যান এবং সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন ঘণ্টা নোমানকে ঘটনাস্থলেই আটকে রাখা হয় এবং কাউকে তার কাছে যেতে বা হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি। সকাল সাতটার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে দাবি স্বজনদের।

ব্যবসায়ী নিহতের খবরের পরপরই স্থানীয় বাঘাইতলা বাজার ও আশেপাশের এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ প্রধান সড়ক টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও বিজিবির ওপর হামলার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত