নারী-শিশুদের এগিয়ে নিতে শিক্ষা-কর্মসংস্থানে জোর দিতে হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক।। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করতে হবে।”
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজে দিনব্যাপী আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ এই আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প, ব্যাংক বুথ ও স্মারক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি এস এম মোমো-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন দুলাল। সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সাকিনা কাইউম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনো অনেক নারী ও শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সুস্থ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সৌজন্যে আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, নারী উদ্যোক্তাদের স্টল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পরে তিনি উদ্যোক্তাদের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাদের তৈরি পণ্যসামগ্রী পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকাত আলী, পরিবেশবিদ ড. আব্দুল ওয়াহাব, স্বপ্ননিবাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোলায়মান শাওন, প্রফেসর আব্দুস সাত্তার, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের সভাপতি এডভোকেট আক্তারুজ্জামান, মানবাধিকার নেতা এইচ এম মনিরুজ্জামান, আরকে রিপন এবং কবি আব্দুল মান্নান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সীমা পুষ্প, সদস্য সচিব মনিরা বুলবুল, সহ-সভাপতি ইলোরা ইয়াসমীন, নারী উদ্যোক্তা আনোয়ারা ও লিন্ডাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানসহ ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দুজন নারী উদ্যোক্তার মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, কেক কাটা ও সবশেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি এস এম মোমো বলেন, পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের কল্যাণে এবং একটি বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনে তাদের এই কল্যাণমুখী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।











