ঢাকা | অক্টোবর ৩, ২০২৬ - ৩:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সুদৃঢ় একাডেমিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই: ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি সংবাদদাতা।। শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুদৃঢ় একাডেমিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়াতে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান (ইন্ডাস্ট্রি) ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য করে তুলতে আমাদের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পর গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল থাকে না। তাই স্বতন্ত্র গবেষণা তহবিল গঠনে দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং অ্যালামনাইদের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।

জনপ্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “বিগত সরকারের আমলে জনপ্রশাসনকে একটি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এই বাস্তবতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং বৈষম্যহীন ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, একটি গণ-আন্দোলন অন্যায় শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে, কিন্তু নতুন ও উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও একাডেমিক গবেষণা। এই সম্মেলনে উপস্থাপিত নীতি সংস্কার, নাগরিক অধিকার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘ব্লু-প্রিন্ট’ বা রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “প্রশাসনকে পুরোনো অভ্যাস বর্জন করে উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে যে, তাঁদের দায়িত্ব নাগরিকদের সেবা করা, তাঁদের ওপর শাসন চালানো নয়।”

 

বিভাগীয় চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহমদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও মো. রবিউল ইসলাম।

সম্পর্কিত