ঢাকা | নভেম্বর ৩, ২০২৬ - ৩:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জাতীয়

এখন যারা রাস্তায় তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি।। পোশাক শিল্পাঞ্চলে চলমান অস্থিরতা ও সড়ক অবরোধ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এখনও যারা রাস্তায় আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা করছে, তাদের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। পতিত শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে আন্দোলনের নামে এই অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সরকার এসব কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করবে।

আজ মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেউ যদি পোশাক কারখানা বন্ধ করার জন্য কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলন ও নাশকতা দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতিমধ্যেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষই এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শ্রমিকদের মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির আগেই আজ সকালে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পল্লবী থানার সাইমন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে।

এই সংঘর্ষ ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন, তবে লাইনের অন্যান্য স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

দুপুরের দিকে ডিবি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং মিরপুর-১০ গোলচত্বরসহ প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অলিগলিগুলোতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের এই আন্দোলন আজ টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সকাল থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিরপুর ও সাভারের পাশাপাশি গাজীপুরের নাওজোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জোনে ১১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

সম্পর্কিত