ঢাকা | নভেম্বর ৩, ২০২৬ - ১:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজধানী

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: মেট্রো স্টেশন বন্ধ, আহত পুলিশ কনস্টেবল, আটক দুই

নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সাথে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পল্লবী থানার সাইমন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন ৭ থেকে ৮ হাজার পোশাক শ্রমিক। একপর্যায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে পুলিশের সাথে তিন দিক থেকে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পল্লবীর কালশী রোডেও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘর্ষের কারণে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ডিবি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং মিরপুর-১০ গোলচত্বরসহ প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সড়কে যারা ব্যারিকেড দিয়ে সহিংসতা তৈরি করেছে, তারা প্রকৃত পোশাক শ্রমিক নয়, বরং আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মাঠে নামা বিশেষ দুষ্কৃতকারী। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অলিগলিগুলোতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের এই আন্দোলন আজ টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এর আগে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাজীপুর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার জনকে আসামি করে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য নিশ্চিত করেছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ। ঢাকার মিরপুর এবং গাজীপুরের নাওজোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জোনে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত