জনি হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাই করে পালানোর সময় পথচারীকে ছুরিকাঘাত করতে গিয়ে ভুলবশত নিজের সহযোগীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী মেহেদী হাসান বাপ্পি (২৮)। নিহত যুবকের নাম মো. জনি, যিনি পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসের মাথায় মূল রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ।
গ্রেফতারকৃত অন্য আসামি হলেন মো. নুর আলম বারেক (২৪)। গত ৯ ও ১০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে খিলগাঁওয়ের বনশ্রীতে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে জনি, বাপ্পি ও বারেক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কদমতলীর জুরাইন এলাকার মোক্তার হোসেন সড়কে অবস্থান নেন। সেখানে দুই পথচারীকে একা পেয়ে তারা পথরোধ করেন এবং ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি কাঁধের ব্যাগ ছিনিয়ে নেন।
ছিনতাই শেষে মালামাল নিয়ে পালানোর সময় একজন পথচারী জনিকে জাপটে ধরে ফেলেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনিকে ছাড়িয়ে নিতে বাপ্পি তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ওই পথচারীকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছুরির আঘাতটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি জনির বুকে বিদ্ধ হয়। জনির চিৎকার শুনে বাপ্পি ও বারেক লুণ্ঠিত মোবাইল ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ভোর ৫টার দিকে টহল পুলিশ জুরাইনের সড়ক থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় জনিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত জনির মা ডালিয়া (৬০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে প্রথমে মেহেদী হাসান বাপ্পিকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সহযোগী নুর আলম বারেককে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আইনানুযায়ী চলমান রয়েছে।











