ঢাকা | নভেম্বর ১, ২০২৬ - ৬:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জাতীয়

‘আমার দেশ’ ছিঁড়ে ফেলা ও সম্পাদককে হুমকির নিন্দা চার সাংবাদিক সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ফেসবুক লাইভে প্রকাশ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় চার সাংবাদিক সংগঠন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), সম্পাদক পরিষদ, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) ও জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি পৃথক বিবৃতিতে একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছে।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) পৃথক বিবৃতিতে তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আচরণে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের একজন সচিব পদমর্যাদার দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

একই দিন সম্পাদক পরিষদ সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের সাথে দ্বিমত পোষণ করা যে কারও গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু সেই ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা আবশ্যক।

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) রাশেদ খানের এই আচরণকে ‘চরম বিদ্বেষমূলক’ এবং জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি একে মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কপি ছিঁড়তে দেখা যায়।

রাশেদ খান তার এই কাজের আত্মপক্ষ সমর্থনে জানান, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত করতে চাননি, বরং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ‘মিথ্যা ন্যারেটিভ’-এর প্রতিবাদেই এটি ছিল তার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পালটা জবাব হিসেবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে যুক্ত করে পত্রিকাটি বিভ্রান্তিকর মূল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সংবাদপত্রের খবরে সংক্ষুব্ধ হলে যে কেউ প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন কিংবা আইনি বা প্রেস কাউন্সিলের আশ্রয় নিতে পারতেন। তা না করে ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার এই দৃশ্য বিগত সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ছাত্র ও যুব সংগঠনের সহিংস আক্রমণের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি, ‘আম-জনতা দল’-এর সদস্য সচিব তারেক রহমান কর্তৃক সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার দাবিকেও উসকানিমূলক ও সরাসরি হুমকি বলে উল্লেখ করেছে ডিইউজে।

নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করার যেকোনো অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।

সম্পর্কিত