ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ - ৭:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থী পেল ৯২ লাখ টাকার বৃত্তি

মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০ জন নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলার ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়। এতে ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া জেলার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আধুনিকায়নে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে ১০টি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ৯০ জন নারীকে ৯০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটির ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ। বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খানসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সালে পাহাড়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল অঞ্চলে পরিণত করতে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপকারভোগী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

সম্পর্কিত