ঢাকা | অক্টোবর ৯, ২০২৬ - ৯:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অর্থনীতি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শ্রমিকের চরম দারিদ্র্য ও সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা যাবে না।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক যৌথ শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এসব দাবি জানানো হয়। ‘গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন’ (GBGWF) এবং ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার’ (NWUC) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উভয় সংগঠনের সভাপতি মোসা. সুলতানা বেগম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৬ সালের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ ২০২৩ সালে নির্ধারিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ১২ হাজার ৫০০ টাকার বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ক্রমবর্ধমান খাদ্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে এরই মধ্যে প্রকৃত মূল্য হারিয়েছে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন যেন মালিকপক্ষ ও সরকারের বন্ধ দরজার কোনো নামমাত্র আলোচনায় পরিণত না হয়।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। ন্যায্য মজুরি কোনো দয়া নয়, বরং এটি শ্রমিকের অধিকার। বিশ্ববাজারের বড় বড় ব্র্যান্ড ও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এই শিল্প থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে, তাই শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দায় মালিকপক্ষ ও সরকারের পাশাপাশি তাদেরও নিতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার সুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি এবং নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইনসহ মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধান ৮টি দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা।
২. ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা।
৩. মোট মজুরির অন্তত ৬৫ শতাংশ মূল মজুরি (বেসিক) করা।
৪. বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
৫. মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রকৃত ও স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৬. আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের দায়িত্ব নেওয়া।
৭. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ‘হিট স্ট্রেস’ বা তীব্র তাপপ্রবাহকে পেশাগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও শ্রমিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
৮. চাকরির নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও স্থায়ী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ নিশ্চিত করা।

সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট মোড়, তোপখানা রোড ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

সম্পর্কিত