ঢাকা | অক্টোবর ৯, ২০২৬ - ১২:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারাদেশ

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীর সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

কবিরহাট (নোয়াখালী) সংবাদদাতা।। টিসিবি’র ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সাথে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আরেক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দাবির আরেকটি অডিও রেকর্ডও ভাইরাল হয়েছে।

অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তার নাম মফিজুর রহমান। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকায় সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে মফিজুর রহমানকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মফিজুর রহমান।

এদিকে, মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্য এক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে ভুক্তভোগী নারী বিকাশে টাকা দিতে চাইলে মফিজুর রহমানকে সরাসরি নগদে টাকা পরিশোধ করতে বলতে শোনা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মফিজুর রহমান ভিডিওর ব্যক্তিটি তিনি নিজে বলে স্বীকার করেন। তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, “ওই নারী আমার পূর্বপরিচিত। একদিন তিনি আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সাথে কিছু মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পরপরই জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সম্পর্কিত