ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ - ৫:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারাদেশ

পাহাড়ের ৩ কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবৃতির জবাবে সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ প্রতিবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তিন কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বিবৃতি দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠনের সরকারি প্রজ্ঞাপন ঘিরে ৫১/৫২ জন বুদ্ধিজীবী ও নাগরিকের একাংশের বিবৃতির জবাবে ১০২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই যৌথ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

​প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে আহ্বায়ক কাজী মোঃ মজিবর রহমান জানান, বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার প্রদান করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতেই সরকার এই গঠনমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

​যৌথ বিবৃতিতে সচেতন নাগরিক সমাজ উল্লেখ করে, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ সুফল পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালি সকল সাধারণ মানুষ যাতে সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও বাস্তবমুখী তদারকি জোরদার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সরকারের এই প্রশাসনিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি ঘটানো, গুম-খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করা এবং সাধারণ নাগরিকের জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন এবং অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কাঠামোর সহায়তায় এ সংস্কার কাজ পরিচালনাকে অহেতুক “সামরিকায়ন” বা “আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব” বলে আখ্যায়িত করা বাস্তবতার অপলাপ এবং নৈরাজ্য জিইয়ে রাখার পুরনো কৌশল মাত্র।

 

​বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার দূরভিসন্ধি সরকারের নেই। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা রোধ ও সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি আসন থেকে প্রাপ্ত জনরায়ের ওপর ভিত্তি করেই সরকার জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, গঠিত পরামর্শক ও নির্বাহী কমিটি আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার নিয়ে সুপারিশ পেশ করবে।

 

​সচেতন নাগকিক সমাজের প্রতিনিধিরা আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর অবৈধ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বহিঃশত্রুর নানাবিধ অপতৎপরতা নস্যাৎ করতেই এই সুসংহত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ উপজাতি কিংবা বাঙালি জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা হরণ করার কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের অঙ্গিকার রক্ষায় পাহাড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

​স্বাধীনতার পর থেকে পার্বত্য সমস্যা নিরসনে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার সকল নাগরিকের মৌলিক সমস্যা সমাধানে তার একটি গতিশীল ও বাস্তবায়নযোগ্য আধুনিক রূপরেখা দাঁড় করাতে চায়। নিরাপত্তার বিষয়টিকে কেবল ‘নিরাপত্তার চশমা’ দিয়ে না দেখে, পাহাড়ে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।

​পরিশেষে, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পাহাড়ে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তারা। একই সাথে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী শান্তিকামী উপজাতি ও বাঙালি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাহাড়ের মূল সমস্যা সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

 

​বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আসিফ মিজান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাসিনুর রহমান, লে: কর্নেল (অব:) খন্দকার ফরিদুল আকবর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব চৌধুরীসহ সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী ও পার্বত্য অঞ্চলের শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সম্পর্কিত