দুর্গম চরে ৮ লাখ মানুষকে সেবা দিয়েছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক।। দেশের নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ ভাসমান হাসপাতাল। যাত্রা শুরুর পর থেকে হাসপাতালটি এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ১৬ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছে। এ পর্যন্ত দেওয়া মোট স্বাস্থ্যসেবার সংখ্যা ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি, যার মধ্যে রয়েছে ৪৮৯টি সার্জিক্যাল ক্যাম্প ও ১৯ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার। মূলত গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই ভাসমান হাসপাতালের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই কর্পোরেট-কমিউনিটি উদ্যোগের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে সম্প্রতি গাইবান্ধায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
ইউনিলিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্র্যান্ড লাইফবয় এবং সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ-এর যৌথ অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ইউনিলিভার বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক উদ্যোগগুলোর একটি। ২০০২ সালে ফ্রান্স থেকে আনা একটি বার্জকে পূর্ণাঙ্গ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তরের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও মূল ভূখণ্ডের প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থাকা মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, সাধারণ চিকিৎসা, চক্ষুসেবা, দন্ত ও চর্মরোগের চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করা হয়।
হাসপাতালটির সুফল পাওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কেবল ২০২৫ সালেই এটি ৪৮ হাজার ৭৮৪ জন রোগীকে সেবা দিয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩৬ হাজার ৫১টি সাধারণ বহির্বিভাগীয় পরামর্শ, ৪ হাজার ৪৪২টি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ৯৮৭টি অস্ত্রোপচার এবং ২১ হাজার ৫০০টি রোগ নির্ণয়সংক্রান্ত পরীক্ষা। একই বছরে হাসপাতালটি ২৮ হাজার ২৭৩ জন নারী ও কিশোরী এবং ৬ হাজার ৫৬৪ জন শিশুর কাছে সেবা পৌঁছে দিয়েছে। এই সময়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং রোগী সন্তুষ্টির হার ছিল ৯৫ শতাংশ।
চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা পেতে সাধারণত দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিতে হয়, যা সময় ও অর্থ সাপেক্ষ। বর্ষাকালে বন্যা, নদীভাঙন ও ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সরাসরি চরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে এই প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে। স্থানীয় রোগীরা জানান, বাড়ির কাছে এই সেবা পাওয়ার ফলে তাদের কষ্টকর যাতায়াত কমেছে এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসা মিলছে।
পরিদর্শনকালে ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, “ইউনিলিভারে আমরা বিশ্বাস করি, সুস্বাস্থ্য মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। একজন মানুষ সুস্থ হয়ে উঠলে তার সুফল পুরো পরিবারে ফিরে আসে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চরাঞ্চলের লাখো মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”
ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ফ্রেন্ডশিপ-এর এই যৌথ পরিদর্শন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করেছে। ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থাকা মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।











