ঢাকা | অক্টোবর ১৫, ২০২৬ - ৭:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজনীতি

সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দলীয়করণ ও বাণিজ্যের অভিযোগ জামায়াতের

স্টাফ রিপোর্টার।। দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি সার মজুত থাকার পরও কেন কৃষকের হাহাকার—সেই প্রশ্ন তুলে সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও কোটি টাকার অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ডিলারশিপ বণ্টনের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের তদন্তসহ সরকারের কাছে এর সুস্পষ্ট জবাবদিহি দাবি করেছে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারের ডিলারশিপ নিয়োগ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যদের রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত করায় এই খাত এখন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এক পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধ এবং নিজস্ব গোডাউন থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও টাকার বিনিময়ে তা ভাঙা হচ্ছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী এমপি ও নেতারা কে কতজনকে ডিলার করবেন তা ভাগ করে নিয়েছেন এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বিলি করছেন।
অভিযোগের সপক্ষে গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান:
• ফরিদপুরের নগরকান্দা ও রংপুরের পীরগাছায় প্রকাশ্যে অর্থ লেনদেন হয়েছে।
• দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েও ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
• ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
• দিনাজপুরে বিএনপির এক নেতার নির্দেশনায় জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। রাজশাহীর কৃষি কর্মকর্তারাও বিএনপির এমপিদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন।
কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারের মোট চাহিদা ৫৮ লাখ মেট্রিক টন এবং বর্তমানে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৯ লাখ টন বেশি সার মজুত রয়েছে। জামায়াত নেতা প্রশ্ন তোলেন, “যদি চাহিদার তুলনায় সার পর্যাপ্তই থাকে, তাহলে বাজারে এই কৃত্রিম অভাব কেন? এর অর্থ হলো সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ।”
জামায়াত নেতাদের এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের খবরে বিএনপির এমপিদের ১৪টি আসনেই সার নিয়ে কৃষকের ভোগান্তির চিত্র স্পষ্ট। অথচ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের ঠিকাদারি ও ডিলারশিপের মাধ্যমে মূল্যায়নের ঘোষণা দিচ্ছেন। যেন এ দেশে অন্য কোনো জনগণ বা দল নেই।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়:
১. ডিলার নিয়োগের অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের ঘটনা অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা।
২. ডিলারশিপ লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি ও তালিকা প্রণয়নের মানদণ্ড প্রকাশ করা।
৩. কৃত্রিম সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তি ও প্রমাণ হাজির করা।
৪. নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা ও তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ।
৫. তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে দায়ী না করা।
প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতও ডিলারশিপের ভাগ চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্ট করেন, “আমাদের এমপি বা নেতাদের কোনো ডিলারশিপ নেই। আমরা পাইনি কেন—সেই অভিযোগও আমাদের নয়। আমাদের দাবি একটাই—যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই যেন নিয়ম মেনে ডিলারশিপ পান।”
১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “জামায়াত সবসময় দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। তবে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে এবং ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে জনগণের কাছে আন্দোলনের কোনো ব্যাকরণ থাকে না।”
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত