পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় যুবসমাজকে কাজে লাগানোর আহ্বান
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেছেন, পাহাড়ের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। তাই তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রেখে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে যুবসমাজের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের তরুণদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। যুবসমাজকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, মং সার্কেলের সার্কেল চিফ রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি রিজিয়নের জিটু-আই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন।
সভায় জানানো হয়, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে। পর্যটন, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কারিগরি খাতে স্থানীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভেদ ও সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তরুণদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।











