ঢাকা | অক্টোবর ৪, ২০২৬ - ২:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

বান্দরবান বেতারে পরিচ্ছন্নতার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি

বান্দরবান প্রতিনিধি।।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়নে প্রতি শনিবার নিজ নিজ দপ্তরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বান্দরবান কেন্দ্রীয় বেতারে তা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকলে মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়ে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বাংলাদেশ বেতার, বান্দরবান কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক (দৈনন্দিন দায়িত্ব) মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ৩০ সেপ্টেম্বরের এক অফিস আদেশে প্রতি শনিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রের অনুষ্ঠান, প্রকৌশল ও বার্তা শাখার সমন্বয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনিয়মিত শিল্পীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

অফিস আদেশে বলা হয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আগামী তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার নিজ নিজ দপ্তরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনা করে তথ্য ও প্রমাণক পাঠানোর জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

তবে শনিবার নির্ধারিত সময়ে বান্দরবান বেতার কেন্দ্রে ওই নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে সরকারি নির্দেশনা জারির পরও তা বাস্তবায়ন না করায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেতার, বান্দরবান কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক (দৈনন্দিন দায়িত্ব) মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনবল সংকটের কারণে শনিবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি বলে জানান। তিনি পরের দিন কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান।

তবে পরের দিন বাইরের কোনো মানুষ দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, বাইরের কোনো মানুষ দিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করবেন না।

এছাড়াও পরের দিন পপরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বললেও সে বিষয়ে কোনো নোটিশ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, সরকারি নির্দেশনায় যেখানে প্রতি শনিবার দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে, সেখানে নির্ধারিত দিনে কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করে পরের দিন করার কথা বলা কতটা যুক্তিসঙ্গত। একই সঙ্গে জনবল সংকটের কারণে নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলা হলেও পরবর্তী সময়ে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। বেতার কেন্দ্রের আঙিনা, নালা-নর্দমা, ছাদ বা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা সময়মতো পরিষ্কার না করা হলে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিল্পীসহ বেতার কেন্দ্রে আসা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সম্পর্কিত