ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ - ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দলমত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বান্দরবানের সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তাঁর প্রথম সরকারি সফর উপলক্ষে আয়োজিত ধারাবাহিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দিনব্যাপী সফরে মন্ত্রী উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথক সভায় মতবিনিময় করেন।

সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সৌহার্দ্য ধরে রাখতে হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়নের সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় মন্ত্রী সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চোরাচালান দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। সভায় ১১ বিজিবি (নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের কাচারি পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি স্থানীয় জলাশয়ের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যচাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির একটি বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পার্বত্য অঞ্চলে ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা রেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পার্বত্য মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় প্রতিনিধিরা যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দেন।

সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক নুরুল কাশেম ও সদস্যসচিব সাইফুদ্দিন বাহাদুরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের মতে, মন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা আশা করছেন, সফরে উঠে আসা বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন, জননিরাপত্তা ও সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে।

সম্পর্কিত