ঢাকা | এপ্রিল ২১, ২০২৪ - ৬:৪০ অপরাহ্ন

খাগড়াছড়ি শশুর-জামাই’র রামরাজত্ব

  • আপডেট: Sunday, September 3, 2023 - 2:58 pm
(পর্ব-১)★ যেখানেই নিয়োগ সেখানেই উৎকোচ ★ ইউপি নির্বাচন মনোনয়নে প্রার্থীদের কাছ থেকে ২৫-৩০ লাখ উৎকোচ ★ জেলা আওয়ামী লীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত ★ বান্ধবীকে তিন কোটি টাকার বাড়ী উপহার।

খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে কামাল পারভেজ : “রক্ষক যখন ভক্ষক হয়” তখন দেশ ও জাতি ধ্বংসের দিকে দাবিত হয় এটা অবধারিত প্রমান মেলে। পবিত্র স্হানে (সংসদ) দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ করেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের  সেবা ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে কখনো বিরূপ আচরণ করবেন না। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি (২৯৮) আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেই “আলাদীনের চেড়াগ বাতি” পেয়ে গেছেন। ধরাকে সরা করাই এখন তার কাজ, অনিয়মকে নিয়মের পরিনত করা, দূর্ণীতিকে সুনীতিতে দেখাই হলো প্রথম ডিউটি মনে করেন। যাকে নিয়ে লেখছিলাম সে হলো খাগড়াছড়ি জেলা সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা। একটা প্রবাদে বলে “চোরে চোরে মাসতুতো ভাই” আর এ যেনো ক্ষুধ শশুর -জামাই মিলে মাসতুতো ভাইকেও হার মানিয়ে দেওয়ার মতো। তাই-তো অনিয়ম -দূর্ণীতি স্বজনপ্রীতিকে নিয়মে পরিনত করে ভাগ বাটোয়ারার অংশীদার হিসেবে আপন বড় ভাইয়ের মেয়ের জামাতা (ভাতিজি জামাই) কে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়ে ফয়দা লুটে নিচ্ছে। মূল অংশে যাওয়ার আগে একটু নির্বাচনী হলফনামাটা দেখে নেই।
হলফনামা : মাত্র পাঁচ বছরে স্থাবর সম্পত্তরি মধ্যে অকৃষি জমরি পরমিাণ ৬০ একর থেকে  বেড়ে  ১৮৪ একরে দাঁড়িয়েছে। যা আগে ছিল বাজার মূল্য ৫৫ লাখ টাকা। হলফনামায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা যা আগে ছলি ২০ লাখ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর নামে নির্মাণাধীন বাড়ির মূল্য ২৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
হলফনামায় দেয়া তথ্যানুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নগদ টাকার পরমিাণ ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা। পাঁচ বছর পর ব্যাংক ও র্আথিক প্রতষ্ঠিানে জমা র্অথে পরমিাণ ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা আগে ছিলো ২২ লাখ টাকা।
অন্যদিকে একাদশ জাতায়ী সংসদ নির্বাচনে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা আছে ১৪ লাখ টাকা। যা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছলি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের নামে ২৮ ভরি র্স্বণরে মূল্য দখোনো হয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা। দুটি প্রাইভেটকার ও একটি ল্যান্ডক্রুজারের দাম দেখানো হয়ছেে ৮০ লাখ টাকা।
অন্তরালের খবর : বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ভারত প্রত্যাগত শরর্নাথী বিষয়ক টাস্কর্ফোস চেয়ারম্যান (প্রতমিন্ত্রী র্মযাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, তার কাছে যেনো সব অনয়িমই নিয়ম। প্রথমে ফ্যাক্স র্বাতায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের অন্তর্বতীকালীন চেয়ারম্যান হন, তারপর দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির দূর্ণীতির অন্যতম সহযোগী হলেন, ভাতিজি জামাই খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের যেনো অন্ত নেই। খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার কথায় যেনো শেষ কথা। আর এই শেষ কথাটি হলো, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম- দূর্ণীতি , সরকারি  জমি দখল, ট্রেন্ডারবাজী, র্অথের বিনিময়ে সরকারী বভিন্নি প্রতষ্ঠিানে নিয়োগ বাণিজ্য, দলের পদ ও কমিটি বাণিজ্য  নারী কেলেঙ্কারি, দলীয় নেতা র্কমীদের উল্টো মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি করা, বিএনপি – জামাত নেতাদের  দলে পূর্নবাসন করেছেন। এসব অপর্কমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। অল্পদিনের ব্যাবধানে হয়েছেন অবৈধ ভাবে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ঐদিকে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ক্ষমতার কাছে সরকারি আমলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও এক ধরনরে অসহায়। তার অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারণে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের র্শীষ র্পযায়ের একটি বিরাট অংশ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির বিরোধিতায় একাট্টা  হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং  প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের র্শীষ নেতা ও দুদকসহ সরকারের গরুত্বর্পূণ দপ্তরে এমপির দূর্ণীতির আমলনামার বিশাল অভিযোগে উঠে এসেছে।
খাগড়াছড়ি জেলার আওয়ামীলীগের র্শীষ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি শুধু একজন আপাদমস্তক র্দূনীতিবাজ ও ঘুষখোর নয়, আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।  তিনি জেলায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের  কোনঠাষা করে রেখেছেন। পক্ষান্তরে দলে স্থান পেয়েছে  দলছুট বিএনপি ও জামাতের নেতাদের । এমপির একগুয়েমীর কারণে খাগড়াছড়ি জেলা  আওয়ামী লীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত।
দলীয় সুত্রে জানা গছে,৭১ সদস্যের খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির ৮ জন সহ-সভাপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাংগঠনকিসহ বেশির ভাগ নেতাই এখন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিরুদ্ধে  একাট্টা। এমপির বিভিন্ন র্দূনীতি- অনিয়ম নিয়ে  প্রধানমন্ত্রীর র্কাযালয়  দুদকসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেও কোন কাজ না  হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছেে  তার নির্বাচনী এলাকায়। এ কারণে খাগড়াছড়ি এলাকার আওয়ামীলীগের নেতার্কমীদের শ্লোগান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ছাড়া নৌকা চাই।
কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির বিরুদ্ধে দখলবাজি ও পদ বাণিজ্যের বাইরেও প্রাথমিক শিক্ষার মতো র্স্পশকাতর এ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে প্রতিবারই র্দূনীতি ও স্বজন- স্প্রীতির অভিযোগ রয়েছে এবং ভাতিজি জামাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর বিরুদ্ধেও। ২০২১ সালের ৮ জুন খাগড়াছড়ি র্পাবত্য  জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে ১৮৬ জন সরকরী শিক্ষক পদে নিয়োগ  দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা উক্ত  পদের জন্য ১২-১৫ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নিয়ে চাকরি দিয়েছেন। এ ক্ষত্রেে পরীক্ষার আগের রাতে জেলা পরিষদের নিজের অনুপাত র্কমর্কতাকে প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ করে  পরীর্ক্ষাথীদের হাতে প্রশ্নপত্র পৌছে দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা পরিষদে হস্তান্তরতি স্বাস্থ্যবিভাগ, কৃষি সমপ্রসারণ অধদিপ্তর ও র্হাটিকালচার সেন্টারে জনবল নিয়োগে ২০২১ সালের  ৫ সেপ্টেম্বর ১১০ জন র্কমচারী নিয়োগ দেন। তাদের কাছ থেকেও প্রতিটি পদ-পদবী অনুসারে ৫-১৫ লাখ টাকা করে উৎকোচ নেয়া হয়ছে। অভিযোগ আছে, ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশরে পর টাকার বিনিময়ে খাগড়াছড়িতে  দু,শতাধকি শিক্ষক নিয়োগ দেন শশুর জামাই মিলে এ নিয়োগে জনপ্রতি শিক্ষকের কাছ থেকেও উপর মহলকে ম্যানজে করার কথা বলে ১২/১৫ লক্ষ টাকা করে প্রায় ২৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। খাগড়াছড়ি কৃষি বিভাগের জনবল নিয়োগেও কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিমুলে  কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তর, ব্যাপক অনিয়ম ও র্দূনীতি আশ্রয় নেওয়া হয়। নাম প্রকাশ করার না র্শতে খাগড়াছড়ি কৃষি অফিসের একাধিক র্কমর্কতা-র্কমচারী জানান, তৃতীয় শ্রেণীর স্টোর কিপার পদে ৫ জন, অফসি সহকারী-কাম-মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৬ জন সহ ২১ জনের কাছ থেকে চাকুরীর নিয়োগ দিতে জনপ্রতি ১৫ লক্ষ টাকা করে স্টোর কিপার পদ প্রত্যাশীদের থেকে ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা এবং চর্তুথ শ্রেণীর বিভিন্ন পদে ৯৩ জনের কাছ থেকে  ১০ লক্ষ টাকা করে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেন।  একই ভাবে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে ৪ আগস্ট ২০১২ সালে জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত পরিবার- পরকিল্পনা বিভাগে বিভিন্ন পদে ৪৯ অফিসের একাধিক র্কমর্কতা-র্কমচারী জানান, তৃতীয় শ্রেণীর স্টোর কিপারর পদে ৫জন, অফসি সহকারী-কাম- মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৬ জনসহ ২১ জনের কাছ থেকে চাকুরীর নিয়োগ দিতে জনপ্রতি ১৫ লক্ষ টাকা করে নিয়োগ প্রত্যাশীদের থেকে  ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা এবং চর্তুথ শ্রেণীর বিভিন্ন পদে ৯৩ জনের কাছ থেকে  ১০ লক্ষ টাকা করে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগের কাজ শেষ করেন। একইভাবে উৎকোচ গ্রহণরে মাধ্যমে  ৪ আগষ্ট ২০১২ সালে জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত পরিবার পরকিল্পনা বিভাগে বিভিন্ন পদে ৪৯ জন র্কমচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এখানে দলীয় নেতাকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা স্বত্তেও  টাকার অভাবে চাকরী হতে বঞ্চিত হয়েছেন। এদিকে র্বতমানে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে ২৫৮ জন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ  পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশরে অপেক্ষামান।
একটি সূত্র জানায়, বিগত সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনয়িমরে অভিযোগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস  প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বভিন্নি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়।
অভিযোগ রয়েছে এমপির ও তার সহযোগীরা মিলে একটি পদের জন্য একাধিক র্প্রাথীর কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে এমপি জনস্বাস্থ্য অধদিপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসনেকে দিয়ে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম-র্দূনীতি করিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত  সোহরাব হোসেন র্দূনীতি ও অনিয়ম অভিযোগে নির্বাহী  প্রকৌশলী হতে (ডিমোশন) উপ-প্রকৌশলী হসিবেে পি.আর.এল.এ যেতে বাধ্য হলে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
খাগড়াছড়ি র্পাবত্য জলোয় ৮৮টি গুচ্ছগ্রাম (বাঙালি) প্রকল্পে ২ বছর পর পর প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতনিধিরিা এ প্রকল্পের চেয়ারম্যান হবেন। কিন্তু কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা  কোন ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারে জেলা প্রশাসককে সুপারশি করে গুচ্ছগ্রামে ৩/৫ লাখ উৎকোচ নিয়ে তার পছন্দের লোককে চেয়ারম্যান বানিয়ে  কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা  প্রতি বছর ৪ কোটি করে দুই দফা সংসদ সদস্য হসিবেে ১০ বছরে ৪০ কোটি টাকা ও টি. আর/কাবিখা বরাদ্ধ পেয়েছেন। কিন্তু সরকারের এ বরাদ্ধ এলাকার জনগণরে কল্যাণে ব্যয় না করে কাগজে-কলমে ঠকিয়ে পুরোটাই আত্মসাত করেছেন। খাগড়াছড়ি র্পাবত্য জেলা পরিষদে সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি সদস্য ৬০ থেকে ৮০ লাখ করে বকসিস নামে চাঁদাবাজি করেন।
নিয়ম অনুযায়ী উপজলো ভত্তিকি হিসাবে বাঙালি সদস্য একজন নেওয়ার নিয়ম থাকলেও টাকার বিনিময়ে  মানকিছড়ি উপজেলা থেকে একসাথে তিনজনকে সদস্য করেন। যা, র্পাবত্য জেলা পরষিদরে আইনকে বৃদ্ধা আঙুল  দেখিয়ে নিজের বানানো আইনকে সিদ্ধি করেছেন  কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।  এছাড়াও চাকমা, মারমা ও ত্রপিুরা সম্প্রদায়রে সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ সংগঠন জেএসএস (সন্তু) ও ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের  নেতাদেরকে সদস্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।
অনুসন্ধানের পর্যালোচনা :  কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা গত দুই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে  অর্জিত সম্পদের ব্যাপক ফারাক। তার চেয়ে ফারাক র্বতমানে তার অর্জিত সম্পদ । দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেয়া হলফনামায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা  কৃষি থেকে দুই লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ২০ লাখ টাকা আয় উল্লেখ থাকলেও পাঁচ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে কৃষি থেকে তিন লাখ আর ব্যবসা থেকে ৫৫ লাখ টাকায় ।
স্ত্রীর নামে পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন  সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে ১৪ লাখ টাকা। এছাড়াও কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ভারত প্রত্যাগত শরর্ণাথীবষিয়ক টাস্কর্ফোসের চেয়ারম্যান হিসেবে পাঁচ বছরে সম্মানী পেয়ে থাকেন ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবী স্ত্রীর র্বাষকি আয় পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৪ টাকা দেখানো  হয়েছে। কিন্তু  র্বতমানে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা  এমপি ও তার পরবিাররে র্অজতি সম্পদ ২০১৮ সালরে তুলনায় আকাশ-পাতাল ব্যবধান । অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুরে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার রয়েছে  প্রায় পৌনে তিন কানি জমির উপর ৫ তলা বিলাস বহুল বাড়ী। যার ব্যয় হয়ছেে প্রায় ৪ কোটি টাকা। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের দক্ষিণ খুবংপুড়ায় গ্রামে বান্ধবী রূপনা চাকমাকে ৪০ শতক জায়গার উপর প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যে ৩ তলা বাড়ী উপহার দিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের পাশে প্রায় ১১ একর সরকারি খাস জমি দখল করে অনুমোদনহীন দৃষ্টি নন্দন খাসাং রিসোর্ট -১ রেষ্টুরেন্টে ও ৫ তলা বিলাস বহুল ভবন। যার ব্যায় প্রায় ৯ কোটি টাকা । যেখানে প্রতিদিন মদ, জুয়া ও ও অসামাজকি কার্যকলাপ হয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।  একইভাবে রাঙ্গামাটি সাজেকে ৩৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তুলছেনে খাসাং রিসোর্ট -২ নামে দুটি আবাসিক রেস্টুরেন্টে । যার মূল্য ৬৫কোটি টাকা। খাগড়াছড়ি পৌরসভার নিউজিল্যান্ডে এলকায় কানি প্রতি ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা দরে নামে-বেনামে ৭ কানি জায়গা ক্রয় করেছেন । যার বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার রাস্তার বাম- ডানে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার হাজার একর জমিতে আম বাগান রয়েছে। দীঘিনালা উপজেলাধীন বোয়ালখালী এলাকায় তার স্ত্রী ও নিজের নামে কুজেন্দ্র মল্লকিা কলেজ (প্রাইভেট) নামে ২০ কোটি টাকার ব্যক্তিগত ট্রাস্টি গঠন করা হয়েছে দীঘিনালার বোয়ালখালী মন্দিরের পাশে ও গ্রামের বাড়ীতে যাওয়ার পথে পৃথক দুটি ইটভাটা। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা দীঘিনালা নিজ এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোর র্পূবক আনুমানকি ২০০০ কানি জমি নিজের দখলে রেখেছেন। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভুয়াছড়িতে ডা: রফিকের কাছ থেকে ৪০ কানি ১৬০০ শতক জায়গা জনৈক মকুল চাকমার নামে ক্রয়, রাঙ্গামাটরি কাপ্তাই মগবান ইউনয়িনে ২৬ একর জমি রয়েছে র্দূনীতিবাজ জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট আশুতোষ চাকমার বিলাস বহুল ৬ তলা ভবনের পাশে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের জমির মালিক এমপি। এছাড়াও নামে-বেনামে  হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়ছে। এ ছাড়া এমপির ছেলের নামে ৩৬ লক্ষ টাকার লাল রঙের  একটি বিলাস বহুল প্রাইভেটকার। স্ত্রীর নামে ১৮ লক্ষ টকার রিকন্ডিশন্ড একটি প্রাইভেটকার। এছাড়া পরিবহন খাতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে পিক-আপ ১, পিক-আপ-২ সহ ভাড়াই চালতি অসংখ্য গাড়ী রয়েছে এবং কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা নিজের ব্যবহৃত ৪ কোটি টাকা দামের একটি বিলাস বহুল গাড়ী রয়েছে।
গরমিল : কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপির নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের বিবরণী থেকে বর্তমান সময়ে তার সম্পদের পরিমাণ ৩০ গুণ দাঁড়িয়েছে। ও পূর্বের আয়ের সাথে বর্তমান আয় -ব্যয় ৫০ গুণ ফারাক রয়েছে।
নেতাদের বক্তব্য :  খাগড়াছড়রি দুইবারের সাবেক পৌর মেয়র আওয়ামীলীগের নেতা মোঃ রফকিুল আলম বলনে, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতির মাধ্যমে পুরো খাগড়াছড়িকে গিলে খাচ্ছে। তিনি দুই মেয়াদে এমপি হয়ে দলটাকে ধ্বংস করেছেন। প্রায় শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালকি হয়ছেনে তিনি। চিহ্নিত  রাজাকারের সন্তান ও জামাত বিএনপির নেতাকর্মী এনে আওয়ামী লীগে বসিয়েছেন । অন্যদিকে গত ১৫ বছর ধরে একটা দলীয় বৈঠকও করতে পারেননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিপুল পরিমান টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ জেলা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ দিয়েছেন।
মাটিরাঙা পৌর মেয়র ও খাগড়াছড়ির জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক বলেন, এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা   সংগঠনটাকে সুবধিাবাদী ও জামাত বিএনপির কাছে বিক্রি   করে দিয়েছে,  লুটপেুটে খাওয়া ছাড়া তার আর কোন কাজ করেননি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  নৌকার মনোনয়ন বিক্রি করে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকে  ২০ থকেে ৩০ লাখ টাকা র্পযন্ত উৎকোচ নিয়েছেন। আমি নিজেই আমার ভাতিজার মনোনয়নের জন্য ২৫ লাখ টাকা কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার হাতে দিয়েছি । তিনি শুধু অনিয়ম  র্দূনীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন,  অভযিোগ করে আরও বলনে, এমপি সাহেব কোন দলীয়  প্রোগ্রাম করনে না। প্রোগামের নামে দুটি গাড়িতে ২০ থকেে ৩০ জন মেয়েদের নিয়ে দলীয় প্রগোমরে নামে নোংরামি করেন। যা দলের জন্য ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রণাঙ্গনের সম্মুখ যোদ্ধা ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, যুদ্ধ করে দেশটা স্বাধীন করেছি আজকের এ পরিনতি দেখার জন্য নয়। কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি হয়ে পুরো খাগড়াছড়ি জেলাকে অনিয়ম-র্দূনীতরি কারখানায় পরিনত করেছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরকে নিজের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন। জেলা আওয়ামীলীগকে মৃত ও অকার্যকর করে রেখেছেন । যা আগামী নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। কৃষকলীগের সাবেক জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ সৌরভ তালুকদার বলেন, শশুর – জামাই মিলে দূর্ণীতি করবে আর পাপের অংশীদার কি আওয়ামীলীগ নিবে নাকি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু কখনোই আওয়ামী লীগ করে নাই অথচ কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপি হওয়ার পর পরই ভাতিজি জামাইকে প্রথমেই জেলা পরিষদ সদস্য করে তৎকালীন তার বিরুদ্ধে  দুদকে মামলা থাকার পরও আইন ভঙ্গ করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেন। এ অভিযোগের বিষয় জানতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এবং টাকা নেওয়ার বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন গুচ্ছ গ্রাম বিষয় প্রকল্প চেয়ারম্যান এগুলো ডিসি দিছে, ঐদিকে চেয়ারম্যান শামসুল আর জাহিদুল জানে,  টাকা নিবো কোত্থেকে আমি নিজেই টাকা দিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে,  নির্বাচন আসলেই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দাঁড় করায় এগুলো সব মিথ্যা বানোয়াট। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু’র মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও তার সাথে  কথা বলা যায়নি।।
বিঃদ্রঃ – আগামী পর্বে থাকছে টেন্ডার কমিশন বাণিজ্য এবং কাগজে কলমে টেন্ডার দেখিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ।