ঢাকা | এপ্রিল ২৫, ২০২৬ - ৯:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইটি এম্বুল্যান্সই রোগাক্রান্ত

  • আপডেট: Saturday, April 25, 2026 - 7:39 pm

মিনহাজুল ইসলাম।।

এম্বুল্যান্সের অভাবে বান্দরবানের লামা উপজেলায় জরুরি চিকিৎসা সেবায় মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও সমাধানে তৎপরতা নেই সংশ্লিষ্টদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এম্বুল্যান্স সেবা একজন রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটি নষ্ট থাকলে রোগী সময়মতো চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে পারে। সমতল এলাকায় না পেলেও মানুষ অন্য যানবাহনে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পাহাড়ে তা সম্ভব নয়। ফলে সমতলের চেয়ে পাহাড়ের একজন রোগীর জন্য এম্বুল্যান্স সেবা অনেক বেশি জরুরি। অথচ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা অপ্রতুল।
জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে থাকা দুইটি এম্বুল্যান্স প্রায় এক বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। তবে তা সংস্কার কিংবা নতুন এম্বুল্যান্স আনার কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে দিন দিন উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার অবনতি ঘটেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম জানান, বিদ্যমান দুইটি এম্বুল্যান্স সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। নতুন এম্বুল্যান্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার এ বিষয়ে সহযোগিতা করলে এ সংকট দ্রুত নিরসন সম্ভব।”
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, লামা উপজেলা থেকে পাঠানো আবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি হেলথ) কার্যালয়ে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। তবে এম্বুল্যান্স সরবরাহের এখতিয়ার তার দপ্তরের আওতায় পড়ে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় এক বছর ধরে দুইটা এম্বুল্যান্স পড়ে আছে, কিন্তু কেউ এগুলো ঠিক করছে না। এতে সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে আছে, জরুরি সময়েও রোগী নিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অকেজো এম্বুল্যান্সগুলো মেরামত অথবা নতুন এম্বুল্যান্স সরবরাহের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।