জাতিসংঘের COP31-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তহীদুল ইসলাম মাছুম
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন (COP31)-এ বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন বান্দরবানের তরুণ পরিবেশ ও জলবায়ু সংগঠক মোঃ তহীদুল ইসলাম মাছুম। তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে সরকারি প্রতিনিধিদলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের COP31 সম্মেলন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিজ্ঞানী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ জলবায়ু নেতারা অংশ নেবেন।
তহীদুল ইসলাম মাছুম বর্তমানে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ইনোভেশন (CERTI)-এর মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি গ্লোবাল ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতাও।
দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তরুণ নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকটগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা।
বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সুপেয় পানির সংকট, ঝরনা ও প্রাকৃতিক পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া, ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়গুলো সম্মেলনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এ ছাড়া জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার, অভিযোজন অর্থায়ন এবং জলবায়ু মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়েও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, COP31-এ তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশগত সংকট, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের বাস্তবতা ও প্রত্যাশা তুলে ধরতেও তাঁর এ অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।











