ঢাকা | অক্টোবর ২০, ২০২৬ - ১২:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারাদেশ

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে দুই চালকসহ নিহত ১৪, আহত ২৫

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন যাত্রী।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক ১৪ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। দুর্ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ৯ জন প্রাণ হারান এবং পরে নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বরিশালের বরগুনা ও কুয়াকাটা অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ‘আরপি পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী পাবনাগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুটি বাহনই মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের ভেতর আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে আরপি পরিবহনের বাসচালক এবং কুড়িগ্রামের ট্রাকচালক আলমগীর হোসেনও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নিলে সকালের দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ১৪ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের সোহাগ হোসেন (৩০)। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং বাকিরা পুরুষ। আহতদের অনেকের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক হওয়ায় রামেক হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত