ঢাকা | অক্টোবর ৮, ২০২৬ - ১:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারাদেশ

সুন্দরবন রক্ষায় বাধা: সুরক্ষা কমিটির সভাপতিকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ায় হত্যার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি) সভাপতি মো. ফারুক হাওলাদার। এই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাওলাদার এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক হাওলাদার বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির নানামুখী কার্যক্রমের কারণে বনকেন্দ্রিক একটি অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর জেরে চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি নির্দিষ্ট করে অভিযোগ করেন, মোংলার জয়মনি এলাকার সোহেল শেখ ও চিলা এলাকার গাববুনিয়ার মিলন শেখ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ‘রাজ খান’ ও ‘মিডিয়া সেল মোংলা’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি ও পেজের মাধ্যমে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁকে খুন ও জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ফারুক হাওলাদার আরও জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং এর পাশাপাশি মৌসুমি ইলিশ মাছের ব্যবসা করেন। বর্তমানে চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সুন্দরবন রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়া অবস্থান নেওয়ার কারণেই মূলত একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর ওপর এমন মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করছে।

হুমকির বিষয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে থানায় জিডি করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করার প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধন বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে অভিযুক্ত সোহেল শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের অংশ। অন্যদিকে অপর অভিযুক্ত মিলন শেখের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত