ঝুঁকিতে ৮৫ লাখ মানুষের তথ্য: ট্রেনের টিকিট কাটলেই চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে
ডেস্ক রিপোর্ট।। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কিনতে গিয়ে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন দেশের সাধারণ নাগরিকসহ সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা। ই-টিকিট ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা এবং তথ্যগুলো ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়ার মতো মারাত্মক সাইবার অপরাধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক আইটি অডিটে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এমন নজিরবিহীন অনিয়ম ও নিরাপত্তা গাফিলতির শতভাগ দায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইনে রেলের টিকিট কাটার সময় একজন যাত্রী তাঁর নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং ই-মেইল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেন। কিন্তু যাত্রীদের এই সংবেদনশীল তথ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণ এখন রেলওয়ের পরিবর্তে রয়েছে তৃতীয় পক্ষের হাতে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেম’ সংক্রান্ত আইটি অডিট টিম।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেলওয়ের নিজস্ব কোনো ডেডিকেটেড ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়নি। রেল ভবনে যে ডেটা সেন্টারটি রয়েছে, সেখানে মূলত শুধু এনআইডি যাচাইয়ের সার্ভারটি রাখা হয়েছে। অথচ মূল সিস্টেম এবং যাত্রীদের মূল ডেটাবেজটি রাখা হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাজনের ‘আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস’-এর ভার্চুয়াল প্রাইভেট ক্লাউডে, যা দেশের বাইরে অবস্থিত।
সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মুশফিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “ইলেকশন কমিশন ছাড়া অন্য কারও কাছে এনআইডির মূল ডেটাবেজ থাকার কথা না। উনারাই এক্সেস করবেন ও ভেরিফাই করবেন।” কিন্তু অডিটের তথ্য অনুযায়ী, ই-টিকিটিং সিস্টেমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’ এবং ‘ইন্টারলিংক টেকসফট লিমিটেড’কে রেলওয়ের সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ডেটাবেজে কেবল সাধারণ যাত্রীই নন, দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত ভ্রমণ সূচি ও পেমেন্ট গেটওয়ের সংবেদনশীল তথ্যও সংরক্ষিত রয়েছে।
রেলওয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন এই ঘটনাকে চরম গাফিলতি উল্লেখ করে বলেন, “এনআইডি ডেটাগুলো তারা কোথায় রেখেছেন বা কোথায় আছে, এই ডেটাগুলো চেক বা ক্রসচেক করা উচিত ছিল। এটা যদি তারা না করে থাকেন, তবে তা অবশ্যই একটি বড় গাফিলতি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর শতভাগ দায় রেলওয়েকেই নিতে হবে।”
এসব গুরুতর অনিয়ম এবং দীর্ঘদিন ধরে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’-এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এছাড়া এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি অতিরিক্ত সচিব রূপম আনোয়ার এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
সূত্র- ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন











