স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৫০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। স্পেনে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় আজ বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া যাওয়ার রেলপথে কাস্তিয়া লা মাঞ্চা অঞ্চলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশের রেল পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আদিফ’ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া উচ্চগতির রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রেনফে ও ইরিও নামক দুটি পৃথক সংস্থার পরিচালিত দুটি ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইরিও ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। আঞ্চলিক সরকারের একটি সূত্র এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে দুর্ঘটনায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্পেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেনফে সংস্থার একটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার ট্রেন সামনে থাকা ইরিও কোম্পানির অপর একটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন; যার মধ্যে রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন এবং ইরিও ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, লাইনচ্যুত একটি ট্রেনের বগি উঁচু রেলপথের ওপর বিপজ্জনকভাবে আটকে আছে। এছাড়া রেলপথের নিচের ঢালে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রেনের ধাতব অংশ, ভাঙা প্যানেল ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলটি মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১০০ মাইল দক্ষিণে তোলেদোর দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে বিমান বাহিনীর ৩টি বিশেষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাজধানী থেকে জরুরি অগ্নিনির্বাপক দল এবং আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন বিশেষ মেডিকেল টিম দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী উর্দা শহরের মেয়র ম্যানুয়েল গালান স্পেনের রেডিও স্টেশন ‘কাদেনা সের’-কে জানিয়েছেন, জরুরি সেবার কর্মীরা উদ্ধারকৃত যাত্রী ও আহত ব্যক্তিদের সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি ক্রীড়া হলসহ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অত্যন্ত প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, সিগন্যালিং ব্যবস্থার জটিলতা কিংবা বড় কোনো ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুল সংস্কৃতির কারণে একই লাইনে দুটি ট্রেন চলে আসায় এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার মাত্র ৯ মাস আগে গত জানুয়ারি মাসেও একই রেলপথে আদামুজের কাছে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পরপর দুটি বড় দুর্ঘটনার পর দেশের রেলপথের আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর আজকের দিনের পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন। পাশাপাশি দেশের প্রধান বিরোধী দল ‘পিপলস পার্টি’-ও তাদের সব নির্বাচনী প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেছে।











