দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা শেষে অবসরে অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথ
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা।।
দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথ। একই সঙ্গে কলেজের নৈশপ্রহরী মো. শফিকুর রহমানও অবসরে গেছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের কর্মজীবন ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কলেজের উদ্যোগে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) শামীম আকতার চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের গভর্নিং বডির (জিবি) সভাপতি মো. রিদুয়ানুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক এইচ এম আবু ওবায়দা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, জিবি সদস্য মো. তৈয়ব ও ডা. শাহনাজ আক্তার। এ ছাড়া জিবি সদস্য মো. আব্দুল করিম, মো. দলিল আহমেদ, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, ফরিদা ইয়াসমিনসহ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অবসরগ্রহণকারী দুজনের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁদের দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা, সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্ক এবং কর্মজীবনের নানা স্মৃতি উঠে আসে তাঁদের বক্তব্যে। এ সময় তাঁরা অবসর-পরবর্তী জীবনে দুজনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও আনন্দ কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও মানুষের কাজ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে যে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তা কর্মজীবনের বাইরেও অটুট থাকে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অবসরগ্রহণকারী দুজনের সম্মানে কেক কাটা হয়। তাঁদের অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি বাবদ কলেজ তহবিল থেকে চেক এবং কল্যাণ তহবিলের প্রাপ্য অর্থ নগদে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের হাতে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। অতিথি ও সহকর্মীরা ফুল দিয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান।
দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে সমীর রঞ্জন নাথ শিক্ষকতার পাশাপাশি সহকারী অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। অন্যদিকে, নৈশপ্রহরী মো. শফিকুর রহমানও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর কর্মজীবনের ইতি টেনেছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে অবসরগ্রহণকারী দুজনের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাঁদের অবসর-পরবর্তী জীবন সুস্থতা, শান্তি ও আনন্দে কাটবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সহকর্মীরা।











