ঢাকা | অক্টোবর ১০, ২০২৬ - ৫:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সারাদেশ

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক সুমন

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি।। কুমিল্লায় ৭ম শ্রেণির স্কুলশিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ, ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সিএনজি চালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী এবং তার পরিবার চাকুরীর সূত্রে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা যশোর জেলায়।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর (উত্তর পাড়া) গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরী সেবা (৯৯৯) নম্বরে কল দেন। লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা এসে মরদেহটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সিএনজি চালক সুমন জানায়, গত ৮ অক্টোবর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশাটি ভাড়া করে তাজমিন। তবে চালক সুমন শর্টকাট রাস্তার কথা বলে তাজমিনকে ভুল পথে নিয়ে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন ও অন্ধকার স্থানে নিয়ে যায়।

সেখানে সিএনজি থামিয়ে দিলে তাজমিন ভয় পেয়ে নেমে পালানোর চেষ্টা করে এবং চিৎকার শুরু করে। এ সময় সুমন তার গামছা তাজমিনের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে ধর্ষণ করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাজমিনকে ধানক্ষেতে উপুড় করে ফেলে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড শেষে তাজমিনের হ্যান্ডব্যাগ থেকে তার আইফোনটি লুটে নেয় সুমন এবং ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়। এরপর পাশের একটি মসজিদে গোসল করে সিএনজিটি ঘটনাস্থলেই রেখে সে অন্য একটি সিএনজিযোগে ঝালমুড়ি বাজারে যায়। সেখানে একটি পুকুরের পাশের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে সে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়।

পরদিন ৯ অক্টোবর পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঝালমুড়ি এলাকার জঙ্গল থেকে তাজমিনের আইফোনটি উদ্ধার করে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

সম্পর্কিত