প্রশ্নফাঁসে যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত: রাজধানীতে চাকরিপ্রার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক।। সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ, নীলক্ষেত ও মতিঝিল শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন হাজারো পরীক্ষার্থী।
জানা গেছে, আজ সকাল ১১টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে, অর্থাৎ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আকস্মিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।
মতিঝিল শাপলা চত্বর ও বিভিন্ন সড়কে তীব্র অবরোধ
পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ আসার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড়, নীলক্ষেত মোড় এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী মতিঝিল শাপলা চত্বর সড়ক অবরোধ করে তীব্র আন্দোলন করছেন, যার ফলে ওইসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিলের বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয় ও মিরপুরের বাঙলা কলেজ কেন্দ্র এবং এর আশপাশের এলাকাতেও চাকরিপ্রার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
২৫ লাখ টাকার চুক্তি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, তার এক আত্মীয় এবং অধিদপ্তরের একটি বড় চক্র এই প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ উঠেছে, প্রতি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে গড়ে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল এবং পরীক্ষার আগের রাতেই বিভিন্ন গোপন স্থানে নিয়ে প্রার্থীদের উত্তরপত্র মুখস্থ করানো হচ্ছিল।
মহাপরিচালকের পদত্যাগ দাবি:
বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দূরদূরান্ত থেকে ধার-দেনা ও কষ্ট করে তারা ঢাকায় পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নফাঁসের কারণে তারা চরম হয়রানি এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে তারা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।
৩ লাখ পরীক্ষার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিত, ২-৩ দিনে নতুন তারিখ:
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে এবার আবেদন করেছিলেন তিন লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারিতে তা ভেস্তে যায়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্মসচিব ডি এম আতিকুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মাজহারুল হক জানিয়েছেন, পরীক্ষাটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের জরুরি মিটিং চলছে এবং আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা অনতিবিলম্বে এই প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অপরাধীদের বিচার ও পরীক্ষা পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর সড়কগুলোতে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।











