নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ধর্না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল পুলিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসা অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ‘বেআইনি জমায়েত’-এর অভিযোগে তাঁকে এবং তাঁর দলের শীর্ষ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়।
আটকের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে প্রিজন ভ্যান থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ও “ভোট চুরি”র অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেয় পুলিশ। এর প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের দলীয় সাংসদদের নিয়ে সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিজ বাড়ির সামনের সড়কেই ধর্নায় বসে পড়েন।
ঘটনাস্থলে দিল্লি পুলিশ এবং সিআরপিএফ (CRPF) এসে তাঁদের ধর্না প্রত্যাহার করে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু নেত্রী ও তাঁর দলের কর্মীরা অবস্থান পরিবর্তন না করায় পুলিশ জোরপূর্বক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সবাইকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ধর্নাস্থল থেকে আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ তৃণমূল নেতা ও সাংসদকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল ও সামিরুল ইসলাম। সাকেত গোখলে এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ছবি ও পোস্ট শেয়ার করে জানান, দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে তাদের আটক করে কোনো একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং সিজেপির এই যৌথ আন্দোলন ঘিরে গত দুদিন ধরেই তপ্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি। এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাকেও পুলিশ আটক করেছিল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রিজন ভ্যানে তোলায় দুই পক্ষের রাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেল।
তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই আটককে “গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ” এবং সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আটক নেতাদের কোন পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করেনি দিল্লি পুলিশ।











