ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ - ৬:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও এজেন্টের ব্যাংক তথ্য বাধ্যতামূলক, ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত

A quick brown fox jumps over the lazy dog. : image Caption

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলের সময় প্রার্থীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তার নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত বুধবার জারি করা হয়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় এসব সংশোধনী আনা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের ফরম-১-এ প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করা আবশ্যক। এর ফলে নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থের উৎস ও লেনদেনের তথ্য আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।

হলফনামা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বিধান পরিবর্তন করেছে কমিশন। হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ৩(খ) ক্রমিকের ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ অংশে থাকা আগের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদানকে ঐচ্ছিক করা হয়েছে।

এ ছাড়া হলফনামার ৩(গ) ক্রমিকের ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত’ বলতে সেই আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অভিযোগ (চার্জ) গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু কোনো মামলায় আসামি হলেই তাকে হলফনামার ক্ষেত্রে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে গণ্য করা হবে না; আদালত কর্তৃক তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হতে হবে।

হলফনামায় পরিবারের সদস্যদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালার ক্রমিক ১০-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যে বলা হয়েছে, ছকের ক্রমিক ২, ৩ ও ৪-এ উল্লিখিত যথাক্রমে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য প্রদান ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রতীকের তালিকাতেও পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন তালিকায় মোট ১২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ নম্বর প্রতীক হিসেবে থাকা ‘নৌকা’কে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধি ৯-এর উপ-বিধি (১) অনুযায়ী, বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ২০-এর দফা (১)-এর অধীন স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যে কোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ দিতে হবে।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার এসব সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব, প্রার্থীর হলফনামা এবং প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিধান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পর্কিত