লামায় জমি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে অনাথ আশ্রমের শিশুদের মানববন্ধন
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় জমি দখলের অপচেষ্টা, হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌরসভার মধুঝিরি গ্রামের রংখ্রেদঃ অনাথ আশ্রমের শিশুরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধনে আশ্রমের পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মারমা, খিয়াং, খুমি, চাক, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের প্রায় ১২২ জন এতিম, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে আশ্রমে লালন-পালন ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় মো. ইউছুপ নিজেকে সাংবাদিক ও কৃষকলীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে আশ্রমের বৈধ ভোগদখলীয় জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে আশ্রম সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউছুপের সহযোগী আবুল হোসেন (আবু মিয়া) আশ্রমে অনাধিকার প্রবেশ করে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তথাকথিত ২৫০নং হোল্ডিংয়ের জমির অজুহাতে আশ্রম উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে, ফলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আশ্রমের জমি দখলের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, উথোয়াইগ্য মার্মার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. ইউছুপ দাবি করেন, লামা উপজেলার ২৯৩নং ছাগলখাইয়া মৌজার ২৫০নং হোল্ডিংয়ের মালিক আলুংসে মার্মার কাছ থেকে তিনি ৩৫ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। একই হোল্ডিং থেকে উথোয়াইগ্য মার্মার মায়ের নামেও ৫ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে, যেখানে তারা বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, উথোয়াইগ্য মার্মা আশ্রমের নামে তার ক্রয়কৃত ৭ শতক জমি জবরদখল করেছেন। এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীপক্ষকে বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও উথোয়াইগ্য মার্মা আরও প্রায় ৫ শতক জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ৭ এপ্রিল উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মো. ইউছুপের অভিযোগ, উথোয়াইগ্য মার্মা আশ্রমের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে বিষয়টিকে স্পর্শকাতর ইস্যুতে রূপ দিয়ে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি ও তার জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।











