ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৬ - ১:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অর্ধশতাব্দীর সংগীতসাধনার স্বীকৃতি পেলেন সৈয়দ আব্দুল হাদী

  • আপডেট: Saturday, June 13, 2026 - 11:44 am

বিনোদন ডেস্ক।। বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের সংগীতাঙ্গন। অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কোটি শ্রোতার হৃদয়ে। দীর্ঘ এই সংগীতসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

শুক্রবার (১২ জুন) জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর জীবন, কর্ম ও সংগীতে অবদান নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মঞ্চে বরণ করে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগীতের জগতকে তিনি এমনভাবে সমৃদ্ধ করেছেন যে বাংলা গানের উচ্চতা এখন অনেকটাই নির্ণীত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠকে ঘিরে। একজন তরুণ শিল্পীর গান কতটা ভালো হলো, সেটি বিচার করতে অনেক সময় তার গায়কির সঙ্গে তুলনা করা হয়। এমন সংগীতপ্রেমী মানুষ খুব কমই আছেন, যিনি অন্তত একবার হলেও সৈয়দ আব্দুল হাদীর গাওয়া কোনো গান গেয়ে দেখেননি।’

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এ সময় অতিথিরা সৈয়দ আব্দুল হাদীর দীর্ঘ সংগীতজীবন, শিল্পনিষ্ঠা এবং বাংলা গানে তার অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও যেন প্রয়োজনীয় যত্ন ও আধুনিক পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। আমরা সংস্কৃতি অঙ্গনকে নতুনভাবে সাজাতে চাই। রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি।’

সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘সবার প্রশংসায় আমি অভিভূত। আমি শুধু অনুরোধ করব, আমরা যেন দেশটাকে ভালোবাসি এবং নিজেদের আচরণে দেশকে ভারাক্রান্ত না করি।’

সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ‘গীতসন্ধ্যা’। এতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা।

অংশ নেন আব্দুল্লাহহেল রাফি তালুকদার, স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসান, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, অপু আমান, সোহানুর রহমান, স্বরলিপি, রাশেদ, রাকা পপি, আজিজুল বারী (সিপু), মুহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আতিক।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর জনপ্রিয় দুটি গান ‘আছেন আমার মোক্তার’ এবং ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিজস্ব কণ্ঠমাধুর্য, শিল্পনিষ্ঠা ও অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করে আসছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার এই অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ সংগীতসাধনার স্বীকৃতি হিসেবেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।