ঢাকা | নভেম্বর ৫, ২০২৬ - ৭:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্বাস্থ্য

ঢামেকের জরুরি বিভাগে কে চিকিৎসক, কে দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান

ঢামেক সংবাদদাতা।। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট পোশাক বা ড্রেসকোড না থাকায় কে চিকিৎসক আর কে দালাল, তা বোঝা মুশকিল বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সাথে কয়েকটি কক্ষে চিকিৎসকদের অনুপস্থিত পেয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান জানান, রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা পান না এবং চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে থাকেন না বলে নিয়মিত অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও উদ্বিগ্ন।

পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের কয়েকটি কক্ষে চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট পোশাক না থাকায় সাধারণ রোগীদের পক্ষে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে রোগীরা যখন চিকিৎসার সরঞ্জাম খুঁজতে ছোটাছুটি করছেন, চিকিৎসকেরা তখন বাইরে বা চা খেতে গেছেন বলে জানানো হচ্ছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও কক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে এবং দুদকও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য এবং রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা বন্ধ করা দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়, এটি সরকার দেখবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

দুদক চেয়ারম্যানের এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন জানান, দুদক চেয়ারম্যান যেসব অনিয়ম ও বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করতে তিনি চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে দুদক চেয়ারম্যানের এই ঝটিকা অভিযানের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের তালিকা তৈরি ও ড্রেসকোড চালুর বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছে।

সম্পর্কিত