সাঁতারের সনদধারী পাইলট তাহসিফ, ‘নদীতে ঝাঁপ দেয়ার’ দাবি মানছেন না বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক।। তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরীর (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু দীপের দেয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেয়ার’ দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম।
তিনি অভিযোগ করেছেন, মূল ঘটনা আড়াল করতে এবং হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এই ধরণের মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পিবিআই হেফাজতে থাকা দীপের জবানবন্দির জবাবে সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাহসিফের বাবা জানান, তার ছেলে একজন পেশাদার পাইলট ছিলেন এবং পাইলট প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর তিনি অত্যন্ত উচ্চতর ও বড় ধরনের কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে সনদ (সার্টিফিকেট) পেয়েছিলেন। ফলে ভালো সাঁতার জানা একজন দক্ষ অফিসার সাধারণ কারো ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মরবেন—এটি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন তাকে লোকজন ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো সব বাজে কথা, এর কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলের সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে।”
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে কি না, জানতে চাইলে এনায়েতুল করিম সরাসরি বলেন, “স্বাভাবিকভাবে তো এটাই মনে হয়। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিষয়টিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।”
এর আগে আজ দুপুরে পিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদে জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ দাবি করেছিলেন, ঘটনার রাতে তুরাগ নদের ঘাটে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোক তাদের ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ নিজে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে নিখোঁজের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফের ব্যবহৃত নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এবং সাঁতার জানা অফিসারের ডুবে মৃত্যুর এই তত্ত্বে মামলার তদন্তে নতুন রহস্যের ডালপালা মেলছে।
পিবিআই জানিয়েছে, দীপের বক্তব্যের পাশাপাশি এই জোরালো অমিলগুলোও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।











