ঢাকা | অক্টোবর ২০, ২০২৬ - ৯:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

ভূজপুরে চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় ১৫ লাখ টাকার চোরাই রাবার উদ্ধার, আটক ৩

মু. আজিজ, ফটিকছড়ি।।

 

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুরে চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের চোরাই রাবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে দাঁতমারা ইউনিয়নের ছোট বেতুয়া এলাকা থেকে রাবারবোঝাই একটি কভার ভ্যান আটক করা হয়। এ সময় চালক ও সহকারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ মুন্সিপাড়া এলাকার আজমখানের ছেলে আমির হোসেন (২৩), একই এলাকার রফিকুলের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২১) এবং ভোলার চরফ্যাশন এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ সেলিম (৩১)। সেলিম গাড়িটির চালক। অন্য দুজন রাবার চোর চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রো-ন ২৩২৩-৩৮ নম্বর প্লেটযুক্ত কভার ভ্যানটি আটক করে। পরে তল্লাশি করে ৬ থেকে ৭ টন রাবার পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধার করা রাবার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চুড়ামণি এলাকার দ্বীল মোহাম্মদের ছেলে জাহেদের। তিনি পুলিশে কর্মরত বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে হাসনাবাদ জমাদারপাড়ার রফিকের ছেলে যুবলীগ নেতা জাহেদ চোরাই রাবার বেচাকেনা ও পাচারের দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, পুলিশে কর্মরত হিসেবে পরিচিত জাহেদ ২০২৪ সালে রামগড় এলাকায় মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং পরে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান বলে জানা গেছে। জুলাই আন্দোলনের পর অদৃশ্য শক্তির সহযোগিতায় তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কর্মরত বলে জানা গেছে। তাঁর বাড়িতে চোরাই রাবার মজুতের গুদাম রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

 

এশিয়ার বৃহত্তম রাবার বাগান হিসেবে পরিচিত দাঁতমারা রাবার বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাবার চুরির অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাবার চুরি করে অবৈধভাবে বিক্রি ও পাচার করা হয়। এ ঘটনায় শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের সহায়তা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ চুরির সঙ্গে জড়িত। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবছর শতকোটি টাকার রাবার চুরি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক মদদের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদলে চক্রের সদস্য পরিবর্তন হলেও চুরি বন্ধ হচ্ছে না।

 

দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বরকত উল্লাহ রাবার ও কভার ভ্যান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা রাবার, গাড়ি ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

উদ্ধার করা রাবারের প্রকৃত মালিক কারা, কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পাচারের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি দাঁতমারা রাবার বাগানে দীর্ঘদিনের চুরির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সম্পর্কিত