ঢাকা | অক্টোবর ৯, ২০২৬ - ৭:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজধানী

মিরপুরে অস্ত্রের মুখে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখলসহ চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাজধানীর মিরপুরে অস্ত্রের মুখে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি এবং মালিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের মারধর করে উল্টো ‘চাঁদাবাজ’ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল। এ ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান দেওয়ান, দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের বর্তমান সদস্যসচিব মহব্বত আলী এবং শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাভেল ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তারা লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশাপাশি কাঁচাবাজার, ফুটপাত ও ভ্যানগাড়ি থেকেও চাঁদা আদায় করছে।

ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলী জানান, ঘটনার দিন চালকের ফোন পেয়ে তিনি স্ট্যান্ডে গেলে উপস্থিত ব্যক্তিরা গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে আপত্তি জানালে তাঁকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের অন্য দুই মালিককে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ও চিকিৎসার নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। পরে তাঁকেই চাঁদাবাজ সাজিয়ে দারুস সালাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি, যার ফলে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, মারধরের সময় ইয়াকুব আলীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে তদন্ত শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। জামিনে মুক্তির পর তিনি থানায় এলে তাঁর অভিযোগের কোনো ‘সুনির্দিষ্ট ভিত্তি’ না থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি। তবে ডিসি বরাবর দেওয়া অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে অভিযুক্ত সোলেমান দেওয়ান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতা এস এ সিদ্দিক সাজু জানান, এটি লেগুনা শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল এবং এর সাথে তাঁর কোনো অনুসারী জড়িত নন। সংবাদ সম্মেলন থেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্ট্যান্ডগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত