মোংলায় ডেঙ্গু ও হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: শয্যা সংকটে হাসপাতাল, স্যালাইনের তীব্র অভাব
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।। বাগেরহাটের মোংলায় ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত উপজেলায় ৪৬১ জন ডেঙ্গুতে এবং ২৬১ জন হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে দুই শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের পাশাপাশি ৫০ শয্যার মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫ জন ডেঙ্গু এবং ১৩ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে মাত্র দেড় মাস বয়সী শিশুও রয়েছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১২০ জনেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তি বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ৩ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে রোগীর উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু চিকিৎসার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘নরমাল স্যালাইন’-এর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই মাস আগে বরাদ্দ পাওয়া ২ হাজার পিস স্যালাইন ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজার, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের কোথাও যোগাযোগ করেও নরমাল স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত রয়েছে।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, “৫০ শয্যার হাসপাতালে ১২০ জনের বেশি রোগী সামলানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। তবে স্যালাইনের সংকট আগামী দিনগুলোতে চিকিৎসায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।”
চিকিৎসকরা জ্বর বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।











