ঢাকা | জুন ৩০, ২০২৬ - ১:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ডাচদের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো

  • আপডেট: Tuesday, June 30, 2026 - 11:12 am

স্পোর্টস ডেস্ক।। গ্রুপ রাউন্ডে ব্রাজিলের সঙ্গে সমতালে টক্কর দিয়ে ১-১ গোলে ড্র-এ মরক্কোকে ঘিরে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখেছে সমর্থকরা। সে কারনেই মেক্সিকোর মনতেরেইতে নেদারল্যান্ডস-মরক্কোর লড়াইটাকে অনেকে বিশ্বকাপের শেষ ৩২–এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে দেখেছেন ফুটবল ভক্তরা। ম্যাচেও তার প্রতিফলন ছিল।

এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটির ফলাফল নিষ্পত্তির জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হয়েছে টাইব্রেকার পর্যন্ত। টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে রাউন্ড অব সিক্সটিনে উঠে গেছে মরক্কো।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই ১-১এ সমতা। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও সমতা। ১২০ মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে একতরফা নিয়ন্ত্রন ছিল মরক্কোর। তাঁদের পায়ে বল ছিল ৭০% । ১২০ মিনিটের লড়াইয়েজয় নিয়ে রাউন্ড অব ১৬-এ উঠতে পারতো মরক্কো। এই ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে গোলের নিশানায় ৫টি শট নিয়েছে মরক্কো। যার মধ্যে ৪টি-ই পরিনত হতে পারতো গোলে। তবে নেদারল্যান্ডস গোলরক্ষক ভারব্রুগেন প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দুটি গোলপোষ্টে লেগে গোল বঞ্চিত করেছে মরক্কোকে।

মরক্কোর ৪-২-৩-১ ফরমেশনের বিপরীতে নেদারল্যান্ডস কোচ এদিন বেছে নিয়েছেন ৫-২-৩ ফরমেশনকে। ডিফেন্স জমাট রেখে এই ফরমেশনে প্রথমার্ধে মরক্কোর উপর্যুপরি আক্রমন প্রতিহত করতে পেরেছে তাঁর শিষ্যরা।

খেলার প্রথম আধ ঘন্টায় ডাচ ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক ভারব্রুগেন মরক্কোর একটার পর একটা আক্রমন সামাল দিতে ছিলেন ব্যস্ত। খেলার ১৮তম মিনিটে মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে উড়ে আসা বল গোল পোস্টের সামনে অরক্ষিত এল আইনাউইয়ের নেয়া হেড ভারব্রুগেন ফিস্ট করেছিলেন। তবে ফিরতি বলে বুয়াদ্দির শট গোল পোষ্টের উপর দিয়ে চলে যায়!

দুই মিনিট পর আবারও নেদারল্যান্ডসকে বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন ভারব্রুগেন। এল খানুসের সেন্টার থেকে দিয়াজ ডি বক্সে সাইবারিকে দিয়েছিলেন পাস। আশরাফ হাকিমি ওভারল্যাপ করে উপরে উঠে এসেছেন দেখে সাইবারি দিয়েছিলেন অধিনায়ককে পাস। ভাগ্যটা খারাপ মরক্কোর। আশরাফ হাকিমির নেয়া জোরালো শটটি গোল পোস্টে লেগে গোল বঞ্চিত করে মরক্কোকে।

খেলার ৪৪তম মিনিটে প্রথমার্ধের একমাত্র গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে নেদারল্যান্ডসের। সামারভিল ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে খেলাটা বাঁ দিকে ফাঁকা থাকা ভ্যান ডি ভেনের কাছে বাড়িয়ে দেন, যিনি বল নিয়ে প্রথম স্পর্শেই সজোরে শট নেন। মরক্কো গোলরক্ষক বুনু ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি বিপদমুক্ত করেন।

ইনজুরি টাইমের ৪র্থ মিনিটে আইনাউইকে ডি বক্সের বাইরে মারাত্মক ট্যাকেলের দৃশ্য দেখেও এড়িয়ে গেছেন রেফারি। এল আইনাউই যন্ত্রণায় মাটিতে পড়ে গেলে ফ্রি কিক এর আশা ছেড়ে দিয়ে উনাহি বল নিয়ে দৌড়ে দিয়েছিলেন সাইবারিকে পাস। সেই পাস পেয়ে নেয়া সাইবারির শট গোলপোষ্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে দুবার গোলের সুযোগ পেয়েছে মরক্কো। ইনজুরি টাইমের ৫ম মিনিটে হাকিমি ডানদিকে উনাহির সাথে বোঝাপড়ায় গোলের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভ্যান ডি ভেনের মার্কিংয়ের কারণে তিনি তা করতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আশরাফ হাকিমি পেয়েছিলেন গোলের সুযোগ। ৫২ মিনিটের মাথায় উনাহি ১৮-গজ বক্সের দিকে এগিয়ে ডিফেন্স চেরা পাস দিয়েছিলেন আশরাফ হাকিমিকে। নিয়েছিলেন জোরালো শট। ডাচ গোলরক্ষকও হয়েছিলেন পরাস্ত। তবে সেই শটটি ক্রসবারে লেগে মরক্কোকে গোল বঞ্চিত করে।

খেলার স্রোতের বিপরীতে গোল পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ৭২ মিনিটের মাথায় লিভারপুল ফরোয়ার্ড গাকপো গোল করেছেন মরক্কো ডিফেন্ডারদের ভুল মার্কিংয়ের সুবাদে। মাঠে নামার কিছুক্ষণ পর ওয়েগহর্স্ট ভারব্রুগেনের হেড থেকে বলটি সামারভিলের দিকে ফিরিয়ে দেন, ডি বক্সের সামান্য বাইরে পা পিছলে সামারভিল পড়ে গেলেও বলটি গাকপোর দিকে বাড়িয়ে দেন। পেছন থেকে দৌড়ে এসে মরক্কো গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বলটি জালে জড়িয়ে দেন (১-০)।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ সময়ে এসে গোল করে খেলাটাকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যান মরক্কো ডিফেন্ডার ইসা দিওপ। মাঠে নামার কিছুক্ষণ পর তালবি বাঁ প্রান্তে বলের দখল নিয়ে কুপমেইনার্স ও ফন ডাইকের মাঝখান দিয়ে নিখুঁত একটি ক্রস দেন, যে ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে সমতায় ফিরেছে মরক্কো (১-১)। মরক্কোর হয়ে এটিই তাঁর প্রথম গোল। এই গোলে ম্যাচটি টেনে নিতে পেরেছে তাঁরা অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের ৬ষ্ঠ মিনিটের মাথায় অবধারিত গোল থেকে বঞ্চিত হয়েছে মরক্কো। ডি বক্সে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে সোফিয়ান রাহিমি দুজন ডাচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডাচ গোলরক্ষকের খুব কাছাকাছি থেকে নিয়েছিলেন প্লেসিং শট। দুর্ভাগ্যক্রমে ওই শটটি ডাচ গোলরক্ষকের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়।

টাইব্রেকারে মরক্কোর রহিমি, ডায়োপস, ইসমাইল সাইবারী এবং নেদারল্যান্ডসের কুপমেইনারস, ওয়েঘর্স্ট গোল করেছেন। এল আয়নাউয়ি এবং আশরাফ হাকিমি টাইব্রেকারে গোল করতে পারেননি। নেদারল্যান্ডসের জাস্টিন ক্লাইভার্ট মেরেছেন পোস্টে, কুইন্টেন টিম্বার্স বল মেরেছেন পোস্টের বাইরে, সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।