ঢাকা | জুন ২০, ২০২৬ - ৮:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মিরসরাইয়ে বাড়ছে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন

  • আপডেট: Saturday, June 20, 2026 - 6:17 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।।

মিরসরাই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন। প্রতিনিয়ত পাহাড় কাটার ফলে একদিকে যেমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে পরিবেশ, অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও। গত বুধবার রাতে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনের জন্য মাটি কাটার সময় মাটি ধসে কিশোর নিহতের ঘটনার পর অবৈধ বসতি উচ্ছেদসহ পাহাড় দখল ও বিক্রেতা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ।

জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, সোনাপাহাড়, খৈয়াছরা, ওয়াহেদপুর ও পূর্ব দুর্গাপুর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাড়ছে অবৈধ বসতি। বন বিভাগের রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকাতেই পাহাড় কেটে তার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে উঠছে এসব বসতি। বুধবার রাতে করেরহাট এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য মাটি কেটে নেওয়ার সময় মাটি চাপা পড়ে দুই কিশোর। এ সময় নিহত হয় সায়েম (১৭) নামে একজন, অন্যজন আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর বন বিভাগের উদ্যোগে কোর্টে ও থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবৈধভাবে পাহাড় দখল ও বিক্রয়কারী সিন্ডিকেট খুঁজছিলাম। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাদশা, নুর উদ্দিন ও মহিউদ্দিনসহ একটি অবৈধ সিন্ডিকেট পাহাড় দখল করে। এরপর দরিদ্র মানুষদের উদ্বুদ্ধ করে দখল বিক্রি করে। এদের বিরুদ্ধে বিগত দিনে ৭টি পৃথক মামলাও রয়েছে।”

তিনি বলেন, “বন বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই তারা চলাচল করে। এবার মাটি চাপায় কিশোর নিহতের পর তারা বাদী হয়ে বন আইনে ওই সিন্ডিকেটসহ আরও ১২ জনকে আসামি করে চট্টগ্রামের বন আদালত এবং জোরারগঞ্জ থানায় পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করি।”

মেহেদী হাসান আরও বলেন, “এ বিষয়ে এমপি নুরুল আমিন অপরাধীদের আটকের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বন বিভাগের এলাকায় থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, “বন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি মামলা এন্ট্রি করা হয়েছে। আমরা অপরাধীদের আটকের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছি।”

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, “উপজেলার অতিমাত্রায় ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তায় শীঘ্রই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”