ঢাকা | জুন ২০, ২০২৬ - ২:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আয়কর অব্যাহতি ও সংসদীয় বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান এমপি দীপেন দেওয়ানের

  • আপডেট: Saturday, June 20, 2026 - 1:10 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান জাতীয় সংসদে প্রদত্ত তার সাম্প্রতিক বাজেট বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্ট আলোচনা ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৮ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বিষয়ক নির্ধারিত আলোচনায় তিনি রাঙামাটির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, উপমহাদেশে প্রথম আয়কর আইন চালু হয় ১৯২২ সালে এবং ওই আইন অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি পাহাড়িদের (Indigenous Hillman) আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ ও আয়কর আইন ২০২৩-এর মাধ্যমেও সেই সুবিধা বহাল রয়েছে। তবে চলতি অর্থবিলে বিদ্যমান সুবিধার কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব আসায় তিনি সংসদে পূর্বের সুবিধা বজায় রাখার সুপারিশ করেন।

সংসদ সদস্য বলেন, তার বক্তব্য নিয়ে একটি পক্ষ ‘আদিবাসী’ শব্দের পরিবর্তে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা করছেন। এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সংসদে অর্থ বিলের আলোচনায় বিলের ভাষা ও ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ হুবহু অনুসরণ করাই সংসদীয় রীতি। যেহেতু সংশ্লিষ্ট অর্থ বিলে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ ও ‘উপজাতীয়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তাই তিনি একই পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্য কোনো জাতিগত পরিচয় নির্ধারণ বা পরিচিতি বিষয়ক বিতর্ক ছিল না, বরং অর্থ বিলে অন্তর্ভুক্ত আয়কর সংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।

এছাড়া, শুধুমাত্র উপজাতিদের সুবিধার বিষয় তুলে ধরেছেন এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, অর্থ বিলে কেবল তিন পার্বত্য জেলার উপজাতি জনগোষ্ঠীর আয়কর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই সংসদে সেই নির্দিষ্ট বিষয়েই মতামত উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান আরও দাবি করেন, কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত মাছ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহে ব্যবসায়ীদের ওপর উৎস কর এবং তিন পার্বত্য জেলা থেকে কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে উৎস কর আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রস্তাব প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিলে ভূমিকা রাখেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্তের সুফল মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বাঙালি জনগোষ্ঠী বেশি ভোগ করবেন।

সবশেষে রাঙামাটিবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এবং সকল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে যাবেন। পাশাপাশি সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।