রাজস্থলীতে মারমা তরুণী অপহরণের অভিযোগে চট্টগ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
রাজস্থলী প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের খ্যানুউ মারমা (১৫) নামে এক মারমা তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ অভিযোগ দায়ের করেছেন ভিকটিমের পরিবার।
ভিকটিমের মা নুম্রসিং মারমা (৩৬) স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, খ্যানুউ মারমা কুণ্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যা মন্দিরের দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটিতে সে বাঙ্গালহালিয়ায় নিজ বাড়িতে আসে। এ সময় স্থানীয় আরচ তালুকদার, পিতা মৃত আব্দুল ফয়েজ আহমেদ তালুকদার এবং তার সহযোগী মোঃ আলাউদ্দিন, পিতা আলী আহমদ, বিভিন্নভাবে তাকে উত্যক্ত ও প্রলোভন দেখাতে থাকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভিকটিমের বাবা-মা বিবাদীদের সতর্ক করলেও তারা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।
গত ২০ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিমের বাবা কেপ্রু মারমা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে কেনাকাটা করতে যান। একপর্যায়ে মেয়েকে দোকানের বাইরে রেখে তিনি দোকানের ভেতরে গেলে ফিরে এসে দেখতে পান খ্যানুউ মারমা সেখানে নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডি নম্বর- ১১৫৫, তারিখ ২১-০৪-২০২৬।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগে গত ৫ মার্চ প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে আরচ তালুকদার ভিকটিমকে একা পেয়ে কুপ্রস্তাব দেন। এছাড়া অপহরণের দিন অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মোবাইল ফোনে ভিকটিমের বাবাকে জানায়, আরচ তালুকদার জোরপূর্বক মেয়েটিকে খাগড়াছড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ না নিতে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দাবি করে ভিকটিম কোথায় আছে সে তথ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আরচ তালুকদারের বয়স প্রায় ৫০ বছর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও বিবাহ বিচ্ছেদের অভিযোগও রয়েছে।
ভিকটিমের পরিবার প্রশাসনের কাছে অপহৃত নাবালিকা মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম অফিসের তদন্ত কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, “মারমা তরুণীর পরিবার আদালতে মামলা করেছেন। মামলা অনুযায়ী আসামি ও ভিকটিমকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”











