ঢাকা | এপ্রিল ২৬, ২০২৬ - ৪:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

‘হামলাকারী’ ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের দাবি ঢাবি সাংবাদিক সমিতির

  • আপডেট: Friday, April 24, 2026 - 11:00 pm

ঢাবি সংবাদদাতা।। রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর ‘হামলাকারী’ ছাত্রদল নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কাছে তিন দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন ডুজা নেতারা। ১২ জন ‘হামলাকারীর’ নাম, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ, আবাসিক হল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হয় সেখানে।

ডুজার তিন দফা দাবি হল–হামলায় জড়িত সব শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে। যেসব হামলাকারীর ‘ছাত্রত্ব’ শেষ হয়েছে (স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন) তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সনদ বাতিল করতে হবে। তাদের বাইরে হামলায় আরও বেশ কয়েকজন জড়িত ছিল; তাদের পরিচয় শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।

এ সময় উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এই ঘটনার জন্য আপনাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। তাৎক্ষণিকভাবে দুটি কমিটি (তদন্ত কমিটি) হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

এদিকে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় ‘জড়িত’ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনটির সব কর্মসূচি বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে ডুজা।

শুক্রবার দুপুরে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পর সমিতির সভাপতি মানজুর হোসাইন মাহি বলেন, “গতকাল সাংবাদিকদের উপরে যেসব ছাত্রদলের নেতাকর্মী হামলা করেছিল তাদের চিহ্নিত করে, দল থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ছাত্রদলের সব কর্মসূচি আমরা বর্জন করব।”

এছাড়া মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করার কথা বলেছেন তিনি।

ছাত্রদলের দুঃখপ্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন নাসির।

এক ফেইসবুক পোস্টে নাসির লিখেছেন, “গতকাল একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন শাহবাগ থানায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য ও গুপ্ত শিবিরের নেতাকর্মীদের সৃষ্টিকৃত মব এবং ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

“আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।”

পোস্টে নাসির বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা ছিল অসামান্য।

“আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে আর কোনো সাংবাদিক যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়।”

প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ স্ক্রিনশট পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।

এর মধ্যেই ডাকসুর দুই নেতাকে শাহবাগ থানার মধ্যে মারধর করা হয়। সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে মারধরে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন সদস্যও আহত হন।