ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৬ - ৯:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মিরসরাইয়ে হামলায় আহত ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, প্রতিবাদে সড়কে আগুন

  • আপডেট: Thursday, April 23, 2026 - 6:49 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হামলায় গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা নাজমুল হোসেন।

এদিকে হৃদয়ের মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উপজেলার কয়লাবাজার এলাকা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লাবাজারে অবৈধভাবে আসা একটি গরুবাহী ট্রাক আটক করে স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, গরুগুলো বিএনপি নেতা মো. টিপু ও আব্দুর রহিমের আশ্রয়ে আনা হয়েছিল, যা টিপুর ভাই সুমন নিয়ে আসেন। এসময় স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করলে সুমন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তাকে মারধর করা হয়।

পরে আব্দুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। তিনি ব্যস্ততার কারণে যেতে না পারলে তার ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় ও আনোয়ার হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। প্রায় ১৫ মিনিট পর খবর আসে, তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহত হৃদয়ের বাবা আব্দুল আলিম অভিযোগ করে বলেন, “অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। সেদিন রাতে বারবার ফোন দিয়ে আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। আমি না যেতে পারায় আমার ছেলেকে পাঠানো হয়। এরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলের সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল না। অনেক কষ্ট করে তাকে বড় করেছি, বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

অভিযুক্ত মো. টিপু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অবৈধ গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। বরং তার ভাই সুমনকে সবুজ ও তার লোকজন মারধর করেছে। হৃদয় ও আনোয়ারের ওপর হামলার বিষয়েও তিনি কোনো জ্ঞান নেই বলে দাবি করেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, “নিহত হৃদয় করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সন্ত্রাসী হামলায় আমরা একজন নিবেদিত সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষে আহত একজন হাসপাতালে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া হৃদয়ের মৃত্যুর খবরে কয়লা এলাকায় সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তবে মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা সম্ভব হয়নি।