ঢাকা | নভেম্বর ৪, ২০২৬ - ৭:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

হেমা চাকমার ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি ও স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতিবাদ পিসিসিপির

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সংসদের সিল ব্যবহার করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি ও তিন পার্বত্য জেলায় স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এ প্রতিবাদ জানান।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে ছাত্র সংগঠনের মতবিনিময় সভায় হেমা চাকমা লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এতে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সংসদের সিল ব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি এবং তিন পার্বত্য জেলায় স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানো হয়। এ প্রস্তাব পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

 

পিসিসিপি নেতারা বিবৃতিতে দাবি করেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নৃতাত্ত্বিক সংজ্ঞায় ‘আদিবাসী’ বা ভূমিপুত্রের স্বীকৃতির বিষয়টি বিতর্কিত। তাঁদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আগে বাঙালিরা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাঁরা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, চুক্তিতে অঞ্চলটিকে ‘উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে আলাদা কোনো বিশেষ মর্যাদা বা ফেডারেল কাঠামোর স্বায়ত্তশাসনের দাবি দেশের একক রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এ ধরনের দাবি পাহাড়ে কথিত ‘জুম্মল্যান্ড’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের অংশ।

 

বিবৃতিতে ডাকসুর কাছে হেমা চাকমার উপস্থাপিত প্রস্তাবটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, নাকি ডাকসুর আনুষ্ঠানিক অবস্থান, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অথবা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবস্থান পরিষ্কার করতে ডাকসু কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান পিসিসিপির নেতারা।

 

বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেন পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জমির উদ্দিন।

সম্পর্কিত