ঢাকা | অক্টোবর ১, ২০২৬ - ৮:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

শিক্ষা

খাগড়াছড়িতে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হাসপাতালে শিক্ষার্থী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সহকারী শিক্ষকের বেত্রাঘাতে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার মাটিরাঙ্গার পলাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী সায়মন ইসলামকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক রহিমা বেগম পড়া শেষ না করায় সায়মনকে বেত দিয়ে মারধর করেন। এতে তার পিঠ ও কোমরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পড়েছে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকালে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মানজিলা সুলতানা। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ থাকার পরও এমন ঘটনা নির্মমতার পরিচয় বহন করে। তিনি আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে, পলাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আক্তার জানান, ঘটনা জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা স্কুল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষার্থীর চাচা জাকির হোসেন বলেন, এমন নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিক্ষকরা যেন মানসিক চাপ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করেন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি করেন তারা।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। তবে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান করেছেন।

সম্পর্কিত