ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৬ - ৯:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লামায় জমির দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • আপডেট: Thursday, April 23, 2026 - 8:06 pm

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।

লামা উপজেলায় জমি দখলের অপচেষ্টা, হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন অনাথ আশ্রমের পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মা নামের এক বাসিন্দা। পাল্টা অভিযোগ এনে অনাথ আশ্রমের পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মাকে ‘দেশদ্রোহী ও পুলিশের কালো তালিকাভুক্ত’ দাবি তুলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিবরণ উপস্থাপন করেন মোঃ ইউছুপ নামের এক সংবাদকর্মী।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে রংখ্রেদঃ অনাথ আশ্রমের শিশুদের দাঁড় করিয়ে মানববন্ধন করেন আশ্রমের পরিচালক। মানববন্ধনে আশ্রম পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মা বলেন, স্থানীয় মোঃ ইউছুপ নিজেকে সাংবাদিক ও কৃষকলীগ সভাপতি পরিচয়ে আশ্রমের জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করছে। প্রভাব বিস্তার করে তার সহযোগীদের মাধ্যমে আশ্রমের লোকদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মিথ্যা দাবি তুলে কথিত ২৫০ নং হোল্ডিংয়ের জমির অজুহাতে আশ্রম উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন মোঃ ইউছুপ। এই অবস্থায় আশ্রমের শিশুরা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন উথোয়াইগ্য মার্মা। আশ্রমের জমি অবৈধ দখলের অপচেষ্টা বন্ধসহ জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ইউছুপ কর্তৃক মিথ্যা দাবি প্রতিহত করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বরাবর স্মারকলিপি দেন আশ্রম পরিচালক।

অপরদিকে বিকেল ৪টায় উথোয়াইগ্য মার্মার সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদকর্মী মোঃ ইউছুপ লামা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, লামা উপজেলার ২৯৩ নং ছাগলখাইয়া মৌজার ২৫০ নং হোল্ডিং ও ১৩ নং খতিয়ানের মালিক আলুংসে মার্মা থেকে মোট ৩৫ শতক জমি ক্রয় করে রেকর্ডীয় মালিক হয়ে বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

একই মালিকের হোল্ডিং থেকে উথোয়াইগ্য মার্মা গং ১০ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর করে তারাও স্থিত আছেন। মোঃ ইউছুপ আরও দাবি করেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে উথোয়াইগ্য মার্মা আশ্রমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমার ক্রয়কৃত ৭ শতক জমি জবরদখল করার চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা করি। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীর প্রতি বিরোধীয় জায়গায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। বিজ্ঞ আদালতের এমন নির্দেশনার পর উথোয়াইগ্য মার্মা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার আরও প্রায় ৫ শতক জায়গা জবরদখলের পাঁয়তারা করছেন। এসব ঘটনায় গত ৭ এপ্রিল উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি প্রতিকার আইনে মামলা করেছি, যা তদন্তাধীন আছে।’

বর্তমানে উথোয়াইগ্য মার্মা আশ্রমের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্পর্শকাতর ইস্যু তৈরি, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি এবং আমার জমি দখলের ষড়যন্ত্র করছেন। এসব বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরের নির্দেশনায় মৌজা হেডম্যান, পাড়া কারবারি, কাউন্সিলরসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিগণ সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেন। ওইসব প্রতিবেদনে উথোয়াইগ্য মার্মার দাবি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করা হয়।

মোঃ ইউছুপ সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলেন, ‘অনাথ আশ্রম পরিচালনার আদলে উথোয়াইগ্য মার্মা পাহাড়ি সশস্ত্র চাঁদাবাজ সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।’ মোঃ ইউছুপ বর্তমানে উথোয়াইগ্য মার্মা কর্তৃক যে কোনো সশস্ত্র হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের ভয়ে আছেন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।