গণভোটের ফল বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে পরণতি আ.লীগের মতোই হবে: আজহারুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক।। গণভোটের ফল বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে পরণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। একইভাবে বর্তমান সরকারও যদি জনগণের রায় অগ্রাহ্য করে এবং গণভোটের ফল বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তবে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দলীয় পেটুয়া বাহিনী বা প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায় না। জনগণের শক্তিই চূড়ান্ত শক্তি। জনগণ রাজপথে নামলে কোনো বাধাই টিকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও অন্যদিকে ভিন্নমত দমনে ‘মব’ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসায় হামলার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনের পর দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবর্তে দলীয়করণ জোরদার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, অথচ সরকার সংকট অস্বীকার করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বর্তমান সরকারের আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের কোনো প্রতিফলন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে এবং সমালোচনার জবাব রাজনৈতিকভাবে না দিয়ে ভিন্ন পথে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে গেলে অতীতের মতোই কঠিন পরিণতি বরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। একই সুরে লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা, জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্যের প্রশ্ন তোলেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে। একইভাবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চানও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি শান্তিপূর্ণ গণমিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
পরে একটি বিশাল গণমিছিল বিজয়নগর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল ও নাইটেঙ্গেল মোড় হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। সমাবেশ থেকে নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে জনরায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে না ঠেলার জন্য সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন।











