ঢাকা | মে ২, ২০২৬ - ৭:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

উপকূলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট: Saturday, May 2, 2026 - 6:53 pm

 

মোংলা প্রতিনিধি।। উপকূলের সুবিধাবঞ্চিত সকল মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, উপকূলীয় মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সব জায়গার সুপেয় পানির ব্যবস্থায় কাজ শুরু করা হয়েছে। উপকূলের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে উপকূলের বাসিন্দার সুপেয় পানির আওতায় আসে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে মোংলার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের বাসিন্দারা সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। প্রাকৃতিকভাবে এই সমস্যার সমাধানেরও চেষ্টা করতে হবে। এজন্য সরকারি পুকুরগুলো সংস্কার, বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে বৃষ্টির পানি ট্যাংকি ও পুকুরগুলোতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নাগরিক সংলাপে সুপেয় পানির সংকট নিরসনের ওপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স’র নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল ও উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরকার।

সংলাপে বক্তারা বলেন, উপকূলের ৭৩ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারে না ৩ কোটি মানুষ। বাধ্য হয়ে দেড় কোটি মানুষকে ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পান করতে হয়।

মোংলার ৬৫ শতাংশ মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। বাকী ৩৫ শতাংশ মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারিভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও, তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারণ করা সম্ভব হয় না।

সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুর বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে।

 

এছাড়া পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপলাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহের কথা জানান তারা। একই সঙ্গে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপের পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ট্যাংকি বিতরণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।