ঢাকা | মে ৯, ২০২৬ - ৫:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, স্বজনদের ফোনে স্বীকারোক্তি দিল ঘাতক

  • আপডেট: Saturday, May 9, 2026 - 1:26 pm

গাজীপুর প্রতিনিধি।। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় নিজের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জনকে হত্যা করেছে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে রাউতকোনা গ্রামের মনির হোসেনের বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জের ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩৫), তার তিন মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল ২ থেকে ৫ বছর বয়সি তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ।

আর খাটের ওপর ফোরকানের শ্যালকের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া বাড়ির ভেতরে যে তিনটি স্থানে মরদেহগুলো পড়ে ছিল, তার প্রতিটি জায়গাতেই মরদেহের পাশে প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। এসব কাগজের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো কোনো মামলার নথিপত্র।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতো ফোরকান মিয়া। সেখান থেকে তিনি প্রাইভেটকার চালাতেন। শুক্রবার রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তার শ্যালক, স্ত্রী সন্তানদের চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ায় ফোরকান মিয়া।

একপর্যায়ে গভীর রাতে তার স্ত্রীকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ঘুমিয়ে থাকা ৩ মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

৫ জনকে হত্যার পর সে রাতেই পালিয়ে যায়। পরে তার স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে তাদের হত্যার বিষয়টি জানায়।

ওসি শাহিনুর আলম আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে থেকে পাওয়া প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে ফোরকানও জড়িত। তা ছাড়া ঘরে রান্না করা সেমাই, কোকাকোলা ও একটি মদের বোতল পাওয়া গেছে। খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছি আমরা।’

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

উদ্ধার হওয়া অভিযোগের কপিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।