ঢাকা | জুন ৮, ২০২৬ - ৮:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গাছড়া চা বাগানে বন্যহাতির তাণ্ডব, আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় শ্রমিকদের

  • আপডেট: Monday, June 8, 2026 - 6:38 pm

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে সীতাপাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ওয়াগ্গাছড়া চা বাগানে দীর্ঘদিন ধরে বন্যহাতির উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় ১৭ সদস্যের একটি হাতির পাল গত এক মাস ধরে বাগান এলাকায় বিচরণ করায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে হাতির আক্রমণে শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি বসতঘর, বাগানের অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চা বাগানের ২ নম্বর সেকশন। সেখানে বসবাসকারী অনেক শ্রমিক নিরাপত্তার অভাবে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে কর্ণফুলী নদীর উত্তর তীরে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। হাতির পাল প্রায়ই গভীর রাত কিংবা ভোরে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং গাছপালা নষ্ট করছে।

চা শ্রমিক রশিদ, সানাউল্লাহ ও আপন জানান, বন্যহাতির হামলায় তাদের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা গত এক মাস ধরে নদীর অপর পারে অবস্থান করছেন। তাদের ভাষায়, হাতির ভয়ে শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরী বলেন, “হাতির আক্রমণে চা শ্রমিকদের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাগানের অভ্যন্তরীণ সড়ক, ফলদ গাছ এবং অন্যান্য গাছপালারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”

চা বাগানের টিলা বাবু চাথোয়াই অং মারমা জানান, প্রায় ১৭টি হাতির একটি দল দীর্ঘদিন ধরে বাগান এলাকায় অবস্থান করছে। কখনো তারা সীতাপাহাড়ে চলে গেলেও হঠাৎ আবার বাগানে ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতি করছে। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ওয়াগ্গাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আমিনুর রশীদ কাদেরী বলেন, “হাতির একটি বড় দল বর্তমানে বাগান এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের উপদ্রবের কারণে অনেক শ্রমিক নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নদীর অপর পারে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।”

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, “দিন দিন হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত ও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে তারা লোকালয়ে চলে আসছে। মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে হলে হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং বনভূমি ধ্বংস বন্ধ করা জরুরি।”

স্থানীয়রা দ্রুত বন বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন, যাতে হাতির উপদ্রব থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।