ঢাকা | অক্টোবর ২২, ২০২৬ - ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

অর্থনীতি

বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ বেশি চট্টগ্রাম বন্দরে: চেয়ারম্যান

শেখ দিদার,চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম বন্দর এর সর্ববৃহত প্রকল্প বে -টার্মিনালের চারটি টার্মিনালই বিদেশি বিনিয়োগে হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) ১৩৭তম বন্দর দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান তিনি। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)তে ইতিমধ্যেই বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছি এতে বন্দর তথা রাষ্ট্র উপকৃত হবে এবং বৈদেশিক আয় বাড়বে। শতভাগ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ থেকে এবং এক দেড় বছরের মধ্যে সব ইকুইপমেন্ট চলে আসবে। গতানুগতিক সিস্টেম থেকে বেরিয়ে ল্যান্ডলর্ড সিস্টেমে বন্দর পরিচালনা শুরু করেছি।
তৎকালীন ব্রিটিশ-ইন্ডিয়া সরকার ১৮৮৭ সালে পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট প্রণয়ন করে যা ২৫ এপ্রিল ১৮৮৮ সালে কার্যকর হয়। তখন থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
তাই প্রতিবছর ২৫ এপ্রিল বন্দর দিবস পালন করা হয়।  বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর সাফল্যজনক ছিল।
‘বে-টার্মিনালের প্রায় ভূমি পেয়ে গেছি এবং  মাস্টারপ্ল্যান হয়ে গেছে। বে-টার্মিনালে নির্মান করা হবে ১২-১৪ মিটার ড্রাফটের চ্যানেল যার সব নকশা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখানে চারটি টার্মিনাল করা হবে। ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে দুইটি টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করবে বিদেশি বন্দর প্রতিষ্ঠান। একটি লিকুইড বাল্ক টার্মিনাল করবে দেশি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল মাল্টিপারপাস টার্মিনালে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বিদেশিরা। বে টার্মিনালের পুরোটাই হবে বিদেশি বিনিয়োগে। সত্যিকার বন্দর নগরের রূপ দেখা যাবে ৪-৫ বছর পর। তখন চট্টগ্রাম বন্দর হবে ‘পোর্ট হাব’।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কোভিড অতিমারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির প্রত্যাশিত গতি মন্থর করলেও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে তেমন প্রভাব ফেলেনি। সর্বোচ্চ ২ দিনে জাহাজ লোড আনলোড শেষ করে পরবর্তী গন্তব্যে ছেড়ে দিচ্ছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবার ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে।
‘অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে জেনারেল কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৯ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার টন। এ সময় জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ হাজার ১টি। বিগত বছরে ৪৩ হাজার বর্গমিটার কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে ২০ ফুটের ৭ হাজার কনটেইনার রাখার সুযোগ হয়েছে। ৪ হাজার ২৭৫ বর্গমিটারের কেমিক্যাল শেড নির্মাণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষায় উভয় পাড়ে ২ হাজার ৮৫০ মিটার রিভেটমেন্ট কাজ সম্পন্ন হয়েছে’।
তিনি বলেন, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর তিন-চার বছরের মধ্যে নিজস্ব টার্মিনালে অপারেশন শুরু করবে। সাপোর্ট ভ্যাসেল সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যাতে টার্মিনাল একদিনও বন্ধ না থাকে। মাতারবাড়ীতে দ্বিতীয় ধাপে ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণের জরিপ কাজ চলছে।
 বন্দরের বহুমুখি কার্যক্রম পরিচালনায় গতিশীল করতে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং চালু রয়েছে তার সক্ষমতা আরো বাড়ানো হচ্ছে। কর্ণফুলী দখল দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী চট্টগ্রাম বন্দরের হার্ট। এ নদী আমাদের মায়ের মতো। নদী খনন, বর্জ্য অপসারণ নিয়মিত করে যাচ্ছি। নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্জ্য ঠেকাতে বন্দরের পক্ষ থেকে খালের মুখে নেট বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে এককভাবে কারও পক্ষে নদী রক্ষা সম্ভব নয়। বন্দরের অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। ১৯৮৬ সালে নির্ধারিত ট্যারিফে বন্দর চলছে। এখন জ্বালানির দাম বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ট্যারিফ কম। আমরা প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। এটা জরুরি।’
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে সোমালিয়ায় জলদস্যুতার শিকার এমভি আবদুল্লাহ নিরাপদে মুক্ত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি নিরাপদে মুক্ত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের আন্তরিকতা, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় এটি সম্ভব হয়েছে। এটা পজেটিভ দিক।’

সম্পর্কিত