গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে
গাজীপুর প্রতিনিধি।। গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে চেরাগ আলী মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে গ্যাস লিকেজের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—চাকরিজীবী মো. লালচান (৬০), তার স্ত্রী মোছা. নাসিমা বেগম (৫০) এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মোছা. তানিসা আক্তার। তারা দীর্ঘ দিন ধরে টঙ্গীর ওই বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানান, দগ্ধ তিনজনের শরীরেই ‘ফ্লেম বার্ন’ হয়েছে এবং তাদের শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, লালচানের শরীরের ৯৫ শতাংশ, তানিসার ৮৬ শতাংশ এবং নাসিমার ৮৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবক্ষয় ঘটায় জরুরি বিভাগ থেকে তিনজনকে অবিলম্বে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের সবার অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাতে রান্নাঘরের লাইনে বা সিলিন্ডারে গ্যাস জমে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভোরবেলা পরিবারের কোনো সদস্য ম্যাচ অথবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করতেই ঘরের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের দরজা-জানালার কাচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
টঙ্গী থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই গ্যাস লিকেজের সূত্রপাত সুনির্দিষ্টভাবে রাইজার, পাইপলাইন নাকি সিলিন্ডার থেকে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কারিগরি দল কাজ করছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসাটিতে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে।











